সাম্প্রতিক
কুমিল্লায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা ঝালকাঠিতে চাঁদাবাজি মামলায় ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ কারাগারে ৭ মহাদেবপুরে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ২ ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’র আহ্বান ইসলামী ব্যাংকের স্বচ্ছ পরিচালনার দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন ফার্মগেট থেকে বৃদ্ধ বাবা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে জবি শিক্ষার্থীর আবেদন বরিশাল বিভাগের সেরা পটুয়াখালীর জামিলা মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক সেবনের সময় চারজন আটক অবসরের ভাবনা প্রত্যাখ্যান করলেন শেখ হাসিনা রাজবাড়ীতে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রস্তাবিত বাইপাস সড়কের নকশা বাতিল ও পুণ:বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন

জঙ্গল সলিমপুর দখলদারের তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তার পরিবারের প্রতিষ্ঠান

মঙ্গলবার,৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের তিন লাখ শতক (৩১শ একর) খাসজমির মধ্যে প্রায় দুই লাখ শতকই ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের সঙ্গে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই জমি যে যেভাবে পেরেছে লুট করেছে। দখলদারদের তালিকায় আছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই বিশাল খাসজমি লুটের মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও।

ভূমিদস্যুরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটেছেন। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু সরিয়ে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন। তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞে ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় হয়ে গেছে। এতে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা এখন খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটার মাটি ও বালু সরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়েই নির্মাণ করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। এতে যে কোনো সময় গ্যাসলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মাসব্যাপী অনুসন্ধানে জঙ্গল সলিমপুরের এই চাঞ্চল্যকর জমি লুটের তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ সোমবার  বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের জমির প্রকৃত চিত্র জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন আকারে চাওয়া হবে। যেসব প্রভাবশালী আলোচনায় আসছেন, তারা কে কীভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন, তাও জানতে হবে। বিষয়টি আমি দেখছি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডপত্রে জঙ্গল সলিমপুরে ৩ লাখ ১০ হাজার শতক খাসজমির হিসাব আছে। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সংরক্ষিত রেকর্ডপত্রে অর্ধেকেরও বেশি জমির রেকর্ড নেই। সেখানে আছে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতকের জমির তথ্য। অবশিষ্ট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমি চলে গেছে পাহাড়খেকোদের পেটে। সীতাকুণ্ড রেজিস্ট্রি অফিসেই সরকারি খাসজমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একজন দলিল লেখক।

সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিন কথা হয় ওই দলিল লেখকের সঙ্গে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ইয়াসিনকে মালিক সাজিয়ে সলিমপুরের বহু জমি বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি বিক্রির পর সেগুলো নামজারিও হয়েছে এসি ল্যান্ড অফিসে। নামজারি ও রেজিস্ট্রি করার সুবিধা পেতে রেকর্ডপত্র থেকেই খাসজমির তালিকা গোপন করা হয়। এই দুটি অফিসের অনেক কর্মচারী ইয়াসিনের সহযোগী। তারা সবাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত করা হলে সব বেরিয়ে আসবে। রেজিস্ট্রির পর নামজারির তথ্য-উপাত্ত গোপন করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহত হওয়ার পর রেজিস্ট্রি ও এসি ল্যান্ড অফিসে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সেখান থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। গোপন করা হয়েছে সব রেকর্ডপত্রও। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরের সব রেজিস্ট্রি মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রেকর্ডপত্রে নেই খাসজমি : তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী জঙ্গল সলিমপুরে খাসজমির ১৪০টি দাগ আছে। এর মধ্যে পাহাড় শ্রেণিতে ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৮, নাল ১ হাজার ৩০১, খাল ৩১৯, ছড়া ২ হাজার ২১৩, গোপাট ৭৭, ছনখোলা ১ হাজার ৩১৭, টিলা ১ হাজার ৫৭, জঙ্গল ৪৭৪, কবরস্থান ৫৪৯, বাড়ি ৭৬, রাস্তা ২৯, মিল ৯০১ এবং খিলা শ্রেণিতে ৩৪ শতক জমি রয়েছে। খাসজমির এই তালিকা সংগ্রহ করতেও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে প্রতিবেদককে।

তালিকায় দেখা গেছে, উল্লিখিত শ্রেণিবদ্ধ জঙ্গল সলিমপুরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতক জমি আছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের হিসাবে তিন হাজার ১০০ একর (৩ লাখ ১০ হাজার শতক) জমির তথ্য প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমির হদিস নেই। প্রকৃত তথ্য গোপন করে রেজিস্ট্রির পাশাপাশি নামজারিও করা হয়েছে এসব জমি।

খাসজমি উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ : আলোচ্য খাসজমি উদ্ধারে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাস্টারপ্ল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সচিব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা। সভায় খাসজমি প্রভাবশালীরা কীভাবে দখল করেছে তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলে। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু বিক্রি করে। পরে সেখানে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দেয়। প্রায় ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় করা হয়েছে। এর ফলে একসময় যেখানে ৪-৫ কিলোমিটার বিস্তৃত পাহাড় ও টিলার সারি ছিল, তা এখন দীর্ঘ খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি তারা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিসিএল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েক কিলোমিটার লম্বা রাস্তা তৈরি করেছে। সেই রাস্তা দিয়ে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর, ড্রাম্প ট্রাক এবং বালু ও মাটিবাহী বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে ওই গ্যাসলাইনে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সভায় আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে এখানে প্রথম উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খাসজমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের দখলেও সেখানে শত শত একর খাস জায়গা থাকায় সেই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।

প্রভাবশালীদের সাইনবোর্ডে সয়লাব : সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে সয়লাব হয়ে গেছে জঙ্গল সলিমপুরের খাসজমি। জমি দখলের তালিকায় আছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও। তার বাবা আখতারুজ্জমান বাবুর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘চৌধুরী অ্যাগ্রো’র নামেও জমি দখল করতে দেখা গেছে। এছাড়াও দখলের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম ব্রিকস অ্যান্ড ক্লে ওয়ার্কস লিমিটেড, পোর্টলিংক লজিস্টিকস কনটেইনার লিমিটেড, খান অ্যাগ্রো, সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা বসতিনগর, জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিলস। এমনকি ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজের সীমানার ভেতরেও আছে এই জমি।

জমি চায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান : দখল উচ্ছেদ করে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ঘোষণার পর ২০২২ সালের পর চট্টগ্রামের অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সরকারি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দের আবেদনে যে পরিমাণ জমির চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তার অর্ধেকও সেখানে নেই।

জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়েছে ৩৫০ একর। পুলিশের ৫টি ইউনিট থেকে পৃথক আবেদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের জন্য ২৫, মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ের জন্য ১৪৫, বাংলাদেশ পুলিশ (আরআরএফ) ২৫, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ১৫ এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক একর জমি চেয়েছে। জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে চট্টগ্রাম সেনানিবাসও। তারা চেয়েছে এক হাজার একর এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি ২৩৮ দশমিক ১৩ একর। র‌্যাব-৭ দশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১২০, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ১০, চট্টগ্রাম ওয়াসা ১০০, বাংলাদেশ বেতার ২৫ এবং বিজিএমইএ ২০০ একর জমি চেয়েছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ একর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য ৫০, সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানার জন্য ২০, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চেয়েছে ৫০০ একর। এছাড়া কারা ডিআইজির কার্যালয় ৭৫ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা চেয়েছে ৪০ একর জমি। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১২, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ ২৫, আল মানাছিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৫০, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ৩০, ইউনিভার্সিটি অব গ্র্যান্ড ৫, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১০, খাদ্য বিভাগ ৫০, ফায়ার সার্ভিস ১০, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ২৫, মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাব ২০, অটিস্টিক বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ৬, বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চল ৫, বুড্ডিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেন্টার ১০, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র ৬৬, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির প্রশিক্ষণকেন্দ্র ১০ এবং জেএম শিপব্রেকিং রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশ কারখানা তৈরির জন্য ২৫ একর জমি চেয়েছে।

এদিকে বারবার চেষ্টা করেও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সরকারি নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। পরে যোগাযোগ করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতের সঙ্গে। তিনি  আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। সাখাওয়াত জামিল বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে আমাকে জানিয়েছেন তার অফিসের রেকর্ডপত্রে আছে ৯১০ একর। এই জমি এখন কীভাবে আবেদনকারীদের দেওয়া হবে, সেটি ভূমি মন্ত্রণালয় দেখবে।’

Tags:

সম্পর্কিত খবর :