শ্রাবণ মাস শেষের দিকে। পত্নীতলা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন শেষ পর্যায়ে চলছে আমন ধানের চারা রোপনের কাজ। কোথাও কোথাও রোপন শেষ হয়েছে, আবার কিছু এলাকায় শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এবছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ জমিতে আমন ধানের চারা রোপন সম্পন্ন হওয়ায় সন্তুষ্ট পত্নীতলা উপজেলার কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পত্নীলায় ২৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকরা ব্রি ধান-৮৬, বিধান-৯৫, ব্রিধান-১০৩, ব্রিধান-১৭ ও স্বর্ণা-৫ সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের আমন ধানের চারা রোপন করেছেন।
পুরো মৌসুম জুড়ে উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা কাজ করছেন। উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, রোগ- বালাই দমন ও সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে ধানের চারা রোপনের শেষ পর্যায়ে কাজ চলছে। নতুন রোপন করা সবুজ চারাই ভোরে উঠেছে মাঠ প্রান্তর। কৃষকের প্রধান লক্ষ্য সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলনের নিশ্চিত আশা করছেন।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়বে, পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
৫-নাম্বার মাটিন্দর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মোঃ আব্দুল হামিদ মন্ডল “দৈনিক আজকের জনবাণীকে” বলেন, সরকারি কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং নিজেদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এবার ভালো ফলন হবে ইনশাল্লাহ। সে আশায় এখন সবুজে মোড়ানো পত্নীতলার মারজুড়ে অপেক্ষা সোনালী ধানের হাসির।




