চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রদল নেতা নুরুল হুদা মূসা হত্যাকাণ্ডের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে ক্যাম্পাসে ‘অপরাজনীতি’ ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চবি শাখা। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানিয়ে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৩ আগস্ট) চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি চবি ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে ১৯৯৪ সালে নিহত ছাত্রদল নেতা নুরুল হুদা মূসার হত্যাকাণ্ডের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে একটি ব্যানার সাঁটিয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করে শিবির।
শিবির নেতাদের দাবি, ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বাইরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে হামলার শিকার হন নুরুল হুদা মূসা। পরে ৭ নভেম্বর ঢাকার সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন ছাত্রদলের নেতা টিটু ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূসার বিরোধ ছিল।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন চবি ছাত্রদলের সভাপতি ইফতেখার হোসেন মহসিন হাটহাজারী থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০০৭ সালে প্রকাশিত রায়ে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সব আসামি বেকসুর খালাস পান বলে উল্লেখ করেছে শিবির।
শিবির নেতারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে মূসার হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল। তবে মামলার এজাহার, মেডিকেল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হাত-পায়ের রগ কাটার কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “৩২ বছর পরে এই পুরোনো বয়ান সামনে এনে ক্যাম্পাসে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।” ছাত্রদলকে তাদের অভিযোগের পক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানিয়ে শিবির নেতারা বলেন, প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে চবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



