সকালে খালি পেটে গরম পানি ও লেবু পানি উপকারের পাশাপাশি রয়েছে কিছু সতর্কতা

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা কুসুম গরম পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কেউ কেউ এর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করেন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে এই অভ্যাস বেশ জনপ্রিয় হলেও, গরম পানি বা  লেবু পানি নিয়ে প্রচলিত সব স্বাস্থ্য দাবীর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশেষজ্ঞের মতে, সকালে পানি পান করার প্রধান উপকার হলো শরীরের পানি ঘাটতি পূরণ করা। পর্যাপ্ত শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, রক্ত সঞ্চালন, শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে।

তবে পানি গরম হলেই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি দ্রুত কমে যায় কিংবা শরীর এসব বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়….. এমন দাবির পক্ষে শক্ত কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই ওজন কমানোর জন্য শুধু গরম পানির উপর নির্ভর না করে সুষম খাবার নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম অথবা ব্যায়াম এবং চিন্তাবিহীন পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

হালকা গরম পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে পানিতে স্বাদ  যোগ হয় এবং লেবু থেকে ভিটামিন-সি -সহ কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়। অনেকের ক্ষেত্রে লেবু পানি পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করতেও  সহায়ক হতে পারে।

তবে লেবু পানি কোন রোগের ঔষধ নয় এবং এটি শরীরের টক্সিন বা বিষ বের করে দেয় বা সরাসরি চর্বি গলিয়ে দেয়…. এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

নিয়মিত অতিরক্ত লেবু পানি পান করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ লেবুতে থাকা অ্যাসিড দাঁতের বাহিরের শক্ত আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। লেবু পানি পান করার পর সাধারণ পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করা উপকারী হতে পারে।

এছাড়াও যাদের অম্বল, বুক জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতা রয়েছে(GRED),তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে লেবু পানি অস্বস্তি বাড়াতে পারে। লেবু পানি পান করার পর পেটে জ্বালাপোড়া, ব্যাথা বা অসস্তি হলে এটি বন্ধ করা বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাভাবিক বা হালকা গরম পানি পান করাই যথেষ্ট। পানি অতিরিক্ত গরম করে পান করা উচিত নয়। লেবু পানি পান করতে চাইলে অল্প পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে লেবু পানি পান করার পর মুখে এসিডের প্রভাব কমাতে সাধারণ পানি দিয়ে কুলকুচি করা ভালো।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো…. সকালে পানি পান করা ভালো অভ্যাস, কিন্তু এটিকে কোন ম্যাজিক স্বাস্থ্য পানীয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি, খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম অথবা শারীরিক পরিশ্রম করা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন