কালীগঞ্জে শিবিরকর্মী হত্যা মামলায় ওসি ও বাদিকে নিয়ে অপপ্রচার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিবির কর্মি শামীম হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে মহেশপুর থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমরান আলম ও বাদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৬ সালে শিবিরকর্মী গুমের পর হত্যার ঘটনা ঘটলেও আট বছর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই ঘটনায় একটি মামলা হয়। 
মামলার বাদী রুহুল আমিনের দাবি, তাঁর ছেলে শামীম হত্যার সঙ্গে ইমরান আলমের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওসি ইমরানের নাম বাদ দিয়ে হলফনামা দেন।
অন্যদিকে, ওসি ইমরান আলমের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুলিশের একাধিক সদস্যের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করা হয়। পরে মামলার তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় আমার নাম বাদ দেওয়া হয়। এর আগে বাদি ওসি ইমরানের নাম বাদ দিয়ে হলফনামা দেন।
সম্প্রতি ইমরান হোসেন পদন্নতি নিয়ে মহেশপুর থানায় ওসি হিসাবে যোগদান করেন। এরপর ওই মামলাকে সামনে এনে একটি মহল অপপ্রচারে নামে। কথিত সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদাবাজির এমন একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ও স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকরা নড়েচড়ে বসে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বাকুলিয়া (ব্র্যাক অফিসপাড়া) গ্রামের শিবির কর্মি শামীম হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে আদালতে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার প্রাথমিক আসামির তালিকায় ইমরান আলমের নাম ছিল। পরবর্তী সময়ে ছয়জনের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ইমরান আলমও ছিলেন।
রুহুল আমিনের দাবি, সে সময় কয়েকজনের প্ররোচনায় পড়ে তিনি একাধিক ব্যক্তির নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, ইমরান আলমসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর ছেলের হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ কারণে তিনি তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং ইমরানের পক্ষে হলফনামা দেন।
ওসি ইমরান আলম জানান, তিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কালীগঞ্জের দুই তরুণ যশোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার বাদী ছিলেন রুহুল আমিনের শ্যালক ইমরান হোসেন। মামলাটির নম্বর ৬৪, তারিখ ১৩ এপ্রিল ২০১৬। দণ্ডবিধির ৩০৪/৩৪ ধারায় করা মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এবং ২৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে আদালত তা গ্রহণ করেন বলে তিনি জানান।
ইমরান আলমের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে বাদী জানতে পারে ইমরান আলমসহ কয়েকজন নির্দোষ, এজন্য তাঁদের পক্ষে হলফনামা দেন এবং বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছেও ইমরান আলমসহ  নির্দোষ ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয় বলে স্বীকার করেন। 
ওসি আরও জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তথ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সুপারিশসহ সাক্ষ্য স্মারকলিপি এক বছর আগে জমা দেওয়া হয়েছে। 
এদিকে, নির্বাণ নিউজ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ইমরান আলমকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রচারিত সংবাদ মুছে দেওয়ার কথা বলে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি ইমরান আলমের কাছে অর্থ দাবি করেন। 
ওসি ইমরান আলম বলেন, বাদি নিজেই বলেছেন আমি কোনো সাংবাদিকের কাছে বলিনি যে, যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছি, সে প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছে। তিনি বলেন, ইমরান দারোগা খুব ভালো মানুষ। মামলা হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আমার পক্ষে হলফনামা দিয়েছেন, যাতে আমি কোনো বিপদে না পড়ি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক অর্থের লোভে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছেন। 
এদিকে ততকালিন কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার শিবির সভাপতি এএইচ মর্তূজার সাথে মুঠোফোনে যোগায়োগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে পারছিনা। এ বিষয়ে আপনারা ঐ সময় জামায়াতে আমির মাওলানা ওলিযারের সাথে যোগাযোগ করেন।   
শিবিরকর্মি হত্যা মামলার বিষয়ে জানতে জামায়াত ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক আমির ও জেলা প্রশিক্ষন সম্পাদক মাওলানা ওলিযার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে মামলাটি করা হয়। ওই সময় আমি জামায়াতে আমির ছিলাম, শিবিররা ওই সময় মালালা করেছে আমি তাদের বাইরে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ মনে করিনি। তবে তারা যে ওসি ইমরান আলমের নাম দিয়েছে সেটা আমার জানা ছিলনা। আমার জানামতে ইমরান ভাই খুব ভাল মানুষ। মামলায় তার নাম আসাটা ঠিক হয়নি। আবার সামাজিক মাধ্যমে বা বিভিন্ন মিডিয়ার বাদির পরিবার এবং ওসি ইমরান আলমের নামে প্রপাকান্ডা ছড়ানোও সমর্থন করছিনা। আমি অন্যান্য দারোগার শুনিছি কিন্তু ইমরান ভাইয়ের নামে কোনদিন খারাপ কিছু শুনিনি। আমি চাই কোন নিরাপরাধ লোক যেন শাস্তি না পায়। 
ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আবু তালিব বলেন, যতটুক জানি মামলা হয়েছে ২০২৪ সালে। আমাদের সিষ্টেম আছে মামলার টিম আছে, মামলার বাদি হবে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ আর মামলার খরচ-খরচা বহন করবে সংগঠন। সেই হিসাবে মামলার বাদি হয় নিহত শামিমের পিতা রুহুল আমিন। আমি ওসি ইমরান আলমের নাম এখন শুনছি, আসলে মনে করতে পারছিনা কোনটা ইমরান। তবে সবার কাছ থেকে যেটা শুনছি উনি নাকি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। যাই আমি চাইনা কোন ভালো মানুষ যেন কোন বিপদে না সম্মূখে না হয়।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top