কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে ভাই ভাইয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বিজ্ঞ আদালতের জারীকৃত ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে পাকা ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে। জমি সংক্রান্ত এই বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো মুহূর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদি ফজলুল করিম একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- এম.আর ৬২৯/২০২৬)। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা মঞ্জুর করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিবাদী মোহাম্মদ কবির ও তার সহযোগীরা বাদি ফজলুল করিমকে গালিগালাজসহ প্রকাশ্যে খুন ও লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ ঘটনায় বাদি ফজলুল করিম গত ২২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ কবির,মোঃ বাদশা,নুরুল আলম ও মোঃ ছোটনকে অভিযুক্ত করে কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং- ৭৯৬)।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিবাদী কবিরের বসতভিটায় একটি বিশাল পাকা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে বালু ও ইটসহ নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
মামলার বাদি ফজলুল করিম অভিযোগ করে বলেন, “বিবাদী আমার আপন ভাই হয়েও পৈতৃক জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার জহরলাল ও স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামসুল আলম প্রকাশ বালু শমশুকে মোটা অঙ্কের ঘুস প্রদান করে একজন প্রকৃত ওয়ারিশ আমাদের আপন সহোদর ভাই মাহমুদুল করিমকে বাদ দিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে। পরবর্তীতে সেই ভুয়া ওয়ারিশ সনদ দিয়ে ভুয়া নামজারি খতিয়ান ও নিজের নামে ভুয়া দলিল বানিয়ে নিয়েছে। এখন আমাদেরকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁচতারা চলছে। আমাকে একটি নন-রেজিস্ট্রার্ড জায়গায় থাকতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোনো সমস্যা হলে পরিবার নিয়ে আমি কোথায় যাবো? নিজের ন্যায্য হিস্যা দাবি করায় তারা আমার ওপর হামলা করেছে, এখন আমি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিবাদী কবির জানান, তিনি যে জমিতে ঘর তুলছেন তা পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এবং পরিবারের সকল ওয়ারিশদের সাথে কথা বলে তাদের মৌখিক বণ্টন অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গাতেই ঘর নির্মাণ করছেন। তবে বাদি আদালতে মামলা করায় কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে তিনি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেন। ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানানো বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অজান্তে ভুল হয়েছে। যা পরিষদ করেছে। আমি করি নাই।
ভুয়া ওয়ারিশ সনদের বিষয়ে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শফিউল আলম জানান, প্রথমে ওয়ারিশ সদনদটি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার ও দফাদারের তদন্ত ও সনাক্ত মতে দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন ওয়ারিশ মাহমুদুল করিম চট্টগ্রাম শহরে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত থাকেন বিধায় উল্লেখিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের শরণাগত ছিলো না। সে সুবাধে আবেদনকারী কবির সটামির মাধ্যমে তথ্য গোপন করে তাঁর আপন সহোদর ভাই মাহমুদুল করিমকে উল্লেখিত ওয়ারিশ সনদ হতে বাদ দিয়েছেন বলে জানতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে প্রশাসনিকভাবে এই জমি বিরোধের সমাধান করা না হলে বড় ধরনের সহিংসতা বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) প্রবাল সিনহা জানান, “বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারার নির্দেশনা এবং থানায় দায়েরকৃত জিডির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করতে না পারে।”
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, “কৈয়ারবিলের ফজলুল করিমের আবেদনের প্রেক্ষিতে থানায় ৭৯৬ নম্বরের একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিবাদী পক্ষকে আদালতের আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




