রংপুর, ২৩ আগস্ট ২০২৬: উত্তর জনপদের কৃতী মুখ, তিস্তা আন্দোলনের সুহৃদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব ফকরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, উত্তর জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ নদী, কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবনের সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি ফকরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন।
রবি বার রংপুরের তিস্তা ভবন মিলনায়তনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর কোনো গড়িমসি না করে সুনির্দিষ্ট সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা এবং প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাই না, এখন চাই বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ।” তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। বর্তমান সরকারও যেকোনো মূল্যে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এখন সেই ঘোষণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের অর্থ একনেকে অনুমোদন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি ঘোষণা এবং প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাইলট প্রকল্প যেন তিস্তা মহাপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়। পাইলট প্রকল্পকে বৃহত্তর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখতে হবে।
বর্ধিত সভায় বক্তারা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল নদীতীর সংরক্ষণ কিংবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ, নাব্যতা এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই পাইলট প্রকল্পের পাশাপাশি পুরো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ধাপভিত্তিক সময়সূচি, অর্থায়নের কাঠামো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সুস্পষ্ট কাঠামো জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুন নুর দুলাল, বখতিয়ার হোসেন শিশির, মাহমুদুল আলম, মশিয়ার রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মুন্সি সাজু, মোশাররফ হোসেন, সাজু সরকার ও পারভিন আক্তার বক্তব্য দেন। এছাড়া উপজেলা নেতৃবৃন্দ তাজুল ইসলাম,ওমর ফারুক, মোনায়েম সরকার ও রবিউল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
সভায় তিস্তাপাড়ের পাঁচ জেলার ১২ উপজেলার শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত
বর্ধিত সভায় আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের মধ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সম্মেলন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
একই সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তিস্তাপাড়ের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও জনমত গঠনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়।




