আর্থ অবজারভেশনভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (Chinese Academy of Sciences—CAS) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর চীনের সাংহাইয়ে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের পক্ষে অধ্যাপক লি গুওছিং (Prof. Li Guoqing) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন (Prof. Dr. Md. Rais Uddin) এতে স্বাক্ষর করেন। উপাচার্য বাংলাদেশ থেকে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সাংহাইয়ে উপস্থিত ছিলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের ও ড. মো. আব্দুল মালেক।
সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষরিত অনুলিপি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে তাঁর দপ্তরে হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ড. মো. আব্দুল মালেকসহ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষকরা।
সমঝোতা স্মারকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইন্টারন্যাশনাল ডেটা নেটওয়ার্ক ফর আর্থ অবজারভেশন (International Data Network for Earth Observation—IDN4EO)-এর আওতায় বাংলাদেশে একটি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সিলেন্স (ICoE-Bangladesh) প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে আর্থ অবজারভেশনভিত্তিক বৈজ্ঞানিক তথ্য, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
সমঝোতার আওতায় কৃষি পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগকালীন জরুরি সাড়া প্রদান, আর্থ অবজারভেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক পণ্য (data products) উন্নয়নে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মানসম্মত ডেটাসেট, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-উপযোগী ডেটাসেট যৌথভাবে উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, জনবল ও একাডেমিক বিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা আয়োজনের মতো কার্যক্রমও এ সহযোগিতার আওতায় থাকবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ICoE-Bangladesh প্রতিষ্ঠা, ভবিষ্যৎ যৌথ গবেষণা, বৈজ্ঞানিক তথ্য আদান-প্রদান এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব লাওস এবং থাইল্যান্ডের মাহানাকর্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয় দুটি চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং চীনের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আর্থ অবজারভেশন ও গবেষণা সহযোগিতার একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, এই সমঝোতা স্মারক শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি নয়; বরং দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উন্নত গবেষণা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দেশের গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে এ অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও একাডেমিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপাচার্য আরও আশা প্রকাশ করেন, এ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক আর্থ অবজারভেশন বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা সহযোগিতায় বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হবে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক অবদান রাখতে সক্ষম হবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছর কার্যকর থাকবে। উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে এর মেয়াদ নবায়ন করা যাবে।




