‎​জনবলসংকটে ধুঁকছে কয়রা শিক্ষা অফিস, প্রশাসনিক তদারকিতে স্থবিরতা

‎​উপকূলীয় জেলা খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তীব্র জনবলসংকট দেখা দিয়েছে। মোট ১১টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটিই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। এতে স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর বাড়তি কাজের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকি।
‎​শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে অফিসে মাত্র চারজন কর্মী কর্মরত আছেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পাঁচটি পদের মধ্যে কাজ করছেন তিনজন। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী ও এমএলএসএসের একটি করে এবং অফিস সহকারীর দুটি পদই খালি। গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে লোকবল না থাকায় সীমিত জনবল দিয়েই সমন্বয় করতে হচ্ছে একাধিক দায়িত্ব।
‎​উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৭৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রশাসনিক কাজ, তথ্য সংরক্ষণ, চিঠি আদান-প্রদান, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণে কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিস মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে। তবে পদগুলো খালি থাকায় দৈনন্দিন দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ ত্বরান্বিত করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের চরম বেগ পেতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অফিসের কাজে বহিরাগত ব্যক্তিদের সহায়তা পর্যন্ত নিতে হচ্ছে।
‎​”অফিসে লোকবলসংকটের কারণে দাপ্তরিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রশাসনিক সেবা পেতে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সব পদ দ্রুত পূরণ করা সম্ভব না হলেও অন্তত অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের মতো পদে অবিলম্বে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”
‎— মোস্তফা জামাল উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
‎​একই বিষয়ে মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার জানান, এটি এক দিনের সমস্যা নয়। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা এবং নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনের সুযোগ নিশ্চিত করতে শূন্য পদগুলো জরুরি ভিত্তিতে পূরণ করা দরকার।
‎​স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদান দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিদর্শন, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার প্রশাসনিক সমন্বয় এবং সরকারি নির্দেশনার সময়মতো বাস্তবায়ন। উপজেলা অফিসে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকলে এ ধরনের কাঠামোগত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই স্থবির হয়ে পড়ে।
‎​উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, “জনবলসংকটের কারণে কাজ পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে বর্তমানে সাময়িকভাবে বহিরাগত লোকজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান আসবে।”
‎​উপকূলীয় এ দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল রাখতে এবং বিদ্যালয়গুলোর সুসংহত তদারকি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার শিক্ষক ও সচেতন মহল।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top