টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল, মেতেছেন নোনাজলে

শারদীয় দুর্গাপূজা ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকের ঢলে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। 

পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা ছাড়াতে পারে সাত লাখ। বিপুল সমাগম ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ভ্রমণের মুহূর্ত। অনেকে ঘোড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়ার পাশাপাশি সাগরে গোসল করছেন। 
পর্যটক আবির, রহিম ও রাজীব জানান, কক্সবাজারের সৈকত পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। সমুদ্র পাড়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর অনুভূতি খুবই মধুর।
পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা।
সৈকতে নিয়োজিত সি-সেইফ লাইফগার্ডের উদ্ধারকর্মী মো. নাছির উদ্দীন বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফ গার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামা জরুরি।
এদিকে দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও কটেজগুলো প্রায় সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে গেছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আশা করছি, পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে সাত লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে। কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও। মেরিনড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী, পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিতে বাড়তি নজরদারি করছে প্রশাসন।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফাহিম ফয়সাল বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রসৈকতসহ সব পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছে। দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top