নওগাঁয় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহত, আহত ৪

নওগাঁ সদর উপজেলার একটি চালকলে বয়লার বিস্ফোরণে আব্দুল খালেক (৪৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চার শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার হাঁপানিয়া এলাকার হাজি ইসারত আলী চালকলে ধান সিদ্ধ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল খালেক হাঁপানিয়া পাড়া এলাকার বছির উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও চালকলে ধান সিদ্ধ করার কাজ চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বয়লারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন।
কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া কমে গেলে শ্রমিকরা চাতালে আব্দুল খালেককে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত চার শ্রমিক নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার সময় চাতালে কাজ করছিলেন শ্রমিক হামিদা বেগম। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “একসাথেই কাজ করলাম। একটু পর দেখলাম খালেক ভাই আর নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। চাতালগুলোতে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।”
সহকর্মীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চাতালে কাজ করতে হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, “তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।”
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে চালকলের মালিক পলাতক রয়েছেন। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top