নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপের মধ্যে এবার লেখালেখির জন্য পুলিৎজার পুরস্কারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় রাশিয়া তদন্ত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পুলিৎজার পাওয়া সাংবাদিকদের সমালোচনাও করেন ট্রাম্প।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি প্রায়ই তুলে ধরেন ট্রাম্প। একাধিক যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি করলেও এ পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, পুরস্কার না পাওয়ায় তাঁর কিছু যায়-আসে না।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, নোবেল পুরস্কারের পাশাপাশি লেখালেখির জন্যও তাঁর পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।
‘আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি। পুলিৎজারও পাইনি। লেখালেখির জন্যও আমার পুলিৎজার পাওয়া উচিত ছিল,’ বলেন তিনি।
পুলিৎজার যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকতা, সাহিত্য, নাটক ও সংগীতে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক পুরস্কার। তবে কোন লেখা বা বইয়ের জন্য তিনি এ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি ট্রাম্প।
রাশিয়া তদন্ত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পুলিৎজার পাওয়া সাংবাদিকদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তাঁদের পুরস্কার পাওয়া উচিত হয়নি। তাঁর দাবি, রাশিয়া নিয়ে তাঁদের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভুল ছিল।
ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া নিয়ে ‘সঠিক ও চমৎকার’ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যাঁরা পুলিৎজার পেয়েছেন, তাঁদের সেই পুরস্কার দেওয়া ঠিক হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রতিবেদনগুলোই ভুল ছিল।
এরপর আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। বক্তব্যে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি মেয়াদের বাকি সময়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের বই ও লেখালেখি ট্রুথ সোশ্যালে নিজের নানা বক্তব্য ও মন্তব্য প্রকাশের পাশাপাশি ব্যবসা, কৌশল ও রাজনীতি নিয়ে প্রায় ২০টি বই প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বইয়ের অনেকগুলো লেখার ক্ষেত্রে সহলেখক ও ঘোস্টরাইটারদের সহায়তা নিয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে প্রবেশের অনেক আগে, ১৯৮৭ সালে ট্রাম্পের নামে প্রথম বই প্রকাশিত হয়। দ্য আর্ট অব দ্য ডিল শিরোনামের বইটি লিখেছিলেন ঘোস্টরাইটার টনি শোয়ার্টজ। বইটি ব্যবসায়িক কৌশল ও ট্রাম্পের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা।
পরবর্তী সময়ে আত্মোন্নয়ন, ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা, রাজনৈতিক নীতিমালা ও আত্মজীবনীমূলক বিভিন্ন বই প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। এসব বইয়ের কয়েকটিতে সহলেখক ও ঘোস্টরাইটাররা কাজ করেছেন। তবে লেখালেখির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে তাঁর দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো বই বা লেখার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
রাশিয়া তদন্ত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিকদের সমালোচনা এবং নিজের লেখালেখির স্বীকৃতি দাবি করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও আলোচনায় এনেছেন পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি।
সূএ: এনডিটিভি




