বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে তোলা ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন নোয়াখালীর বাঁধের হাট আব্দুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম মারুফ। বহিষ্কারের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলেও তাকে বহিষ্কার করা হতো না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বহিষ্কারাদেশের নোটিশ প্রকাশ করেন মারুফ। নোটিশে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহানের অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে।
বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় মারুফ ফেসবুকে লেখেন, চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার হতাম না, অনৈতিক কাজ করলে বহিষ্কার হতাম না, নেশাগ্রস্ত হলে বহিষ্কার হতাম না, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায় রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে পোস্ট করায় আমাকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল।
নিজের সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে মারুফ দাবি করেন, কলেজে ছাত্রদলের কার্যক্রম সচল রাখতে তিনি একাই কাজ করেছেন। কমিটির অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতিতে কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে নিজের অর্থ ব্যয়ে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলেও জানান তিনি।
মারুফের ভাষ্য, কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদক এক দিনের জন্যও কলেজে আসতেন না। এ অবস্থায় তিনি একাই সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তিনি একাই এগিয়ে যেতেন। দল-মত নির্বিশেষে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সবার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজনীতির মাধ্যমে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা নেননি দাবি করে মারুফ বলেন, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব কখনো রাজনীতি করে বৈধ-অবৈধভাবে এক পয়সাও ইনকাম করিনি। সব ইতিহাস আরেক দিন বলব।
বহিষ্কারের কারণ হিসেবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি না করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং তোষামোদ ও দালালি করতে না পারার কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ বলেও মন্তব্য করেন মারুফ।
জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মহসিন রিয়াজ বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাসিবুল ইসলাম মারুফকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।



