মুন্সিগঞ্জে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা মাহবুব উল আলম স্বপনের বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় প্যাড ও পদবি ব্যবহার করে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন শহর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান বকুল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি চেয়ে গত ৩০ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করা হয়। ওই আবেদনে বিএনপির দলীয় প্যাড ব্যবহার এবং মাহবুব উল আলম স্বপন নিজেকে ‘শহর বিএনপির সদস্যসচিব’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মামলার বাদী মোখলেছুর রহমান বকুল।
অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ কয়েকজনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের বিষয়টি গোপন রেখে স্বপন বিএনপির দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাহবুব উল আলম স্বপন ধানের শীষের বিপরীতে ফুটবল প্রতীকের সমর্থকদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন।
মামলার বাদী মোখলেছুর রহমান বকুলের অভিযোগ, দল থেকে বহিষ্কারের পরও দলীয় পদবি ও প্যাড ব্যবহার করে স্বপন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এ ঘটনায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
‘বহিষ্কারের কাগজ ভুয়া’ দাবি স্বপনের
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহবুব উল আলম স্বপন। তিনি বলেন, ‘দল থেকে আমাকে বহিষ্কারের যে কাগজটি ছড়ানো হয়েছিল, সেটি আমরা যাচাই করে দেখেছি ভুয়া। আমরা মৌখিকভাবে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম, এটা সত্য; কিন্তু কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র দেইনি। তাছাড়া দল থেকেও আমরা বহিষ্কারের কোনো কাগজ পাইনি।’
মামলা দায়েরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭টি বছর লড়াই করেছি, দুর্দিনে বিএনপির হাল ধরেছি। আমি বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করব।’
রাজনৈতিক পটভূমি
প্রসঙ্গত, ২০২২ সাল থেকে মুন্সিগঞ্জ শহর বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব উল আলম স্বপন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে নিজ দলের প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান রতনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জেলা বিএনপির তৎকালীন সদস্যসচিব (পরে বহিষ্কৃত) মো. মহিউদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একপর্যায়ে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্বপন।
এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্যাডে তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত একটি নথিতে মাহবুব উল আলম স্বপনসহ আরও কয়েকজনকে বহিষ্কারের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ওই বহিষ্কারের নথির সত্যতা বা বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ‘মর্নিং পোষ্ট’ এর মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।




