কুড়িগ্রাম সদরে মাদকাসক্ত ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে পারুল বেগম নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তার স্বামী সরদার আলী। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৫ ঘণ্টার মধ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘাতক ছেলে মুত্তাকীন আলম শোভনকে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুত্তাকীন আলম শোভন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য বগুড়ার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব সেন্টার) রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর সম্প্রতি তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বাড়িতে ফেরার পর সে ফের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।
এরই জেরে গত রাতে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজন শোভনকে ফিরিয়ে নিতে তার বাড়িতে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শোভন ঘরের ভেতরে হঠাৎ ছুরি দিয়ে তার মা পারুল বেগমকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় স্ত্রীকে রক্ষা করতে বাবা সরদার আলী এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় শোভন। পরে পরিবারের অন্য সদস্য ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত সরদার আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে কুড়িগ্রাম এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে পালিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী আরাজী পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিহত পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




