রাজধানীর উত্তরায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে লন্ডভন্ড, গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো শ্রমিক

রাজধানীর উত্তরায় বকেয়া বেতন ভাতা এবং সর্নসর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবীতে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিনে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ২০ জন পুলিশ সদস্যও পথচারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক হতাহতের ঘটনায় লণ্ডভণ্ড।

উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। মামলা দুটিতে অজ্ঞাতনামা ১২শ থেকে ১৫শ জনকে আসামি করে মামলা করায় গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক।

উত্তরা পূর্ব থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানা ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দুটি করা হয়। যার মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানার মামলায় ১২শ থেকে ১৫শ জন এবং শিল্প পুলিশের মামলায় ৬০ থেকে ৭০ জন অজ্ঞতা নামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। একটি মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে সংঘর্ষের সময় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি সাধন, সড়ক অবরোধ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া। অপরটিতে শিল্প পুলিশ সদস্যের উপর হামলা ও সরকারি গাড়ি অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ই অক্টোবর পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে দিন দিন ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে একটি মহল। যদিও শ্রমিকদের এই দাবিটির বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় কর্তৃক বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসে এই বিষয়ে গেজেট প্রকাশ হওয়ার কথাও রয়েছে। উত্তরা বিভাগ পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরেও বিক্ষিপ্ত শ্রমিকরা অদৃশ্য কোন এক ইশারায় মহাসড়ক দখলে নেয়। পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বললে বিশেষ কোন মহলের ইন্দনে গত শনিবার পুলিশের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ক্রমিকরা। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ারসেল ও জলকামান ব্যবহার করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনায় পথচারী, পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন হতাহতের খবর পাওয়া যায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উত্তরা বিভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যায়।

উত্তরা পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মোর্শেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

একদিকে সহিংসতায় লন্ডভন্ড উত্তরা অন্যদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কের ঘর ছাড়া হাজার হাজার শ্রমিক। এভাবে চলতে থাকলে গার্মেন্ট শিল্পের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে এমন শংকায় শিল্প মালিকরা। কাজেই সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পোশাক শিল্প ফিরে পাক তার পূর্বের ঐতিহ্য এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top