“প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি” এ শ্লোগান নিয়ে রাজবাড়ীতে তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়ে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৯ জুন) সকাল ১১ টায় রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তৃতা করেন, রাজবাড়ী জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি লুৎফর রহমান লাবু, ডাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আমিরুল ইসলাম রিন্টু, সমন্বিত প্রমিলা মুক্তি প্রচেষ্টার পরিচালক মোঃ মোকাররম হোসেন, ভিপিকেএ নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল ইসলাম, নাসার নির্বাহী পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান সোহেল, অবসরপ্রাপ্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার চৌধুরী, মীর মশাররফ হোসেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রতিবছর বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “টহসধংশরহম ঃযব অঢ়ঢ়বধষ: ঈড়ঁহঃবৎরহম ঘরপড়ঃরহব ধহফ ঞড়নধপপড় অফফরপঃরড়হ”, যার বাংলা প্রতিপাদ্য হলো “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি”। এবারের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে মূলত তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের মধ্যে নিকোটিন ও তামাকের আসক্তি তৈরির জন্য যে কৌশলগুলো ব্যবহার করে, সেগুলো মোকাবিলায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বছরের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো: তামাক কোম্পানির বিভ্রান্তিকর কৌশল উন্মোচন করা। শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা। তরুণ ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করে প্রতিরোধে সক্ষম করে তোলা।
তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো কিশোর ও তরুণদের আসক্ত করতে প্রচলিত সিগারেটের পাশাপাশি নতুন ধরনের উচ্চ-আসক্তি সৃষ্টিকারী পণ্য বাজারজাত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (ঐঞচং) এবং সিন্থেটিক নিকোটিন ডিভাইস। নানা বিপণন কৌশলের মাধ্যমে এসব পণ্যকে আধুনিক, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান নিকোটিন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ তরুণদের স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য উদ্বেগজনক এবং আসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
সারা বিশ্বে তামাক ও নিকোটিন উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের ক্ষতিকর দিক আড়াল করতে নিত্যনতুন কৌশল গ্রহণ করছে। তারা ই-সিগারেট বা ভেপকে “নিরাপদ বিকল্প” কিংবা প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ ধারণা বিভ্রান্তিকর। ই-সিগারেট বা ভেপ মোটেও নিরাপদ নয়; বরং এগুলো দ্রুত ও উচ্চমাত্রার নিকোটিন আসক্তি সৃষ্টি করতে পারে। তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব পণ্যে বিভিন্ন ফল, ক্যান্ডি ও মিষ্টি স্বাদের ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। তামাক কোম্পানিগুলোর এ ধরনের কৌশল তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে অর্জিত সাফল্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে এবং তামাক ও নিকোটিন পণ্যের আকর্ষণ কমাতে ই-সিগারেট, ভেপ, নিকোটিন পাউচসহ উদীয়মান নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধে পৃথক ও কার্যকর আইন প্রণয়ন সময়ের দাবি।












