পত্নীতলা উপজেলা মাটিন্দর ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, শ্রাবণ মাসের ১৫ তারিখের দিকে মনে হয় অনেক কিছু অনলাইনে ছাড়া রোপন করেন এরপর যেমন বৃষ্টি দেখা না পাওয়ার জমিতে বর্তমান ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক কৃষক আমন ধানের চারা রোপণ করেন।এরপর আর তেমন বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় জমিতে থাকা পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। বর্তমান অনেক জমিতে চারা টিকিয়ে রাখতে পানি সেচ দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ফসলি জমির মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ধানের চারা বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
কৃষকরা আরও বলেন, আমন ধান মূলত বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল ফসল। রোপনের পর জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকলে ধানের চারা দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং নিড়ানি ও পরিচর্যা কাজও সহজ হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হয় এখন একদিকে সেচের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে শ্রমিক দিয়ে জমির পরিচর্যা দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে।
পত্নীতলার গিদিশা গ্রামের কৃষক মোঃ শামসুল হক বলেন, “ধান রোপন করার পর বৃষ্টি না হাওয়ায় জমির পানি শুকিয়ে গেছে। দিনের বেলায় প্রচন্ড রোদ মাটি শক্ত হয়ে যাচ্ছে, অনেক জায়গায় ফসলি জমিতে ফাটল ধরেছে। এখন বৃষ্টি না হলে পানি সেচ দিয়ে জমি বাঁচানো ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। কিন্তু পানি সেচের খরচ অনেক। ”
১৭ আগস্ট ২০২৬ সোমবার আজকের আবহাওয়া বার্তায় জানা যায় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় অঞ্চলের ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
বর্তমান আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কৃষকদের আশার খবর রয়েছে। পত্নীতলার আবহাওয়া পূর্বাভাসে ১৭ আগস্ট ২০২৬ রবিবার ও ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার কয়েকবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী কয়েকদিনেও কমবেশি বৃষ্টির আভাস রয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস তথ্যসূত্র অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া সহ মাজারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে রোপা আমন ধানের জমিতে মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে, কৃষকদের জমির অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচ দিতে হবে। একই সঙ্গে সময় মত আগাছা পরিষ্কার ও নিড়ানির কাজ করতে হবে, যাতে ধানের চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহাত না হয়।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, অতিরিক্ত পানি সেচ না দিয়ে জমির প্রয়োজন বুঝে পানি ব্যবস্থাপনা করতে হবে। কোন জমিতে ধানের চারা দুর্বল হয়ে পড়া,পাতা হলুদ হওয়া বা রোগবালাইয়ের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে কৃষকদের সেই বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে সেচ ব্যবস্থা নিতে হবে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত প্রযার্প্ত বৃষ্টির পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের পরামর্শ ও নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধা,কৃষি পরামর্শ এবং রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে অনাবৃষ্টির ক্ষতি অনেকটা সামাল দেওয়া সম্ভব।
আকাশের মেঘের অপেক্ষায় এখন পত্নীতলার কৃষক। শুকিয়ে যাওয়া জমি আর ফেটে যাওয়া মাটির দিকে তাকিয়ে তাদের একটাই পার্থনা… সময় মতো বৃষ্টি হোক, সবুজ হয়ে উঠুক মাঠ, বাঁচুক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।




