‘সার নেই’ বলা ডিলারের গোডাউনে মিলল ৬০ বস্তা, বিক্ষোভ কৃষকদের

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় ঘটনাস্থলে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এ সময় নির্ধারিত ডিলার শহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

রোববার সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তারা জানতে পারেন, শুক্রবার ও শনিবার সার বিতরণ করা হয়েছে এবং ওই দিন আর সার দেওয়া হবে না। এতে কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে আরও কৃষক সেখানে জড়ো হলে ডিলার পক্ষের লোকজনের সহযোগিতায় গোডাউন খোলা হয়। সেখানে প্রায় ৬০ বস্তা সার পাওয়া যায় বলে কৃষকেরা জানান।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন ব্যক্তির নাম রেজিস্টারে দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি উত্তোলন করা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। বিতরণের রেজিস্টার রয়েছে, সেটি দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। চাহিদার তুলনায় কম সার পাওয়া গেলে তার করার কিছু নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডিলার শহিদুল ইসলামের নামে ৬৪ টন সারের বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে তিনি প্রথম সপ্তাহে ৫৮ টন সার উত্তোলন করেন। ৫৮ টন সারে প্রায় এক হাজার ২০০ বস্তা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ডিলার পয়েন্টে থাকা সার বিতরণ রেজিস্টার পর্যালোচনা করে দেখতে পান, বিতরণ করা সারের তালিকায় মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ কৃষকের মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে। তালিকা থেকে নয়জন কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন সার পাওয়ার কথা জানান। অপর আটজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল বলেন, ডিলার পয়েন্টে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় আরও সার আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সার বিতরণের রেজিস্টার পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর কৃষি কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও সার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

চলতি আমন মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ইউরিয়ার পাশাপাশি টিএসপি ও ডিএপি সার নিয়েও কৃষকদের ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।

তবে জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। প্রতিমাসের চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা সার উত্তোলন করছেন।

কালীগঞ্জের বাফার গোডাউন ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, ইউরিয়া সারের মজুদ, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের বাফার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top