সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, কমিটি গঠন ও সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিরোধের মধ্যে প্রেসক্লাবের নির্বাচনসহ কমিটির সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ সদর সিভিল জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ও প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, প্রেসক্লাবের আজীবন বহিষ্কৃত সদস্য শরিফুল ইসলাম ইন্না তালা ভেঙে প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর নিজেকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ২১ সদস্যের একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে শরিফুল ইসলাম ইন্নাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
৭৮ সদস্য অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ :
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওই কার্যনির্বাহী কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কয়েক দফায় প্রেসক্লাবের সদস্য তালিকায় ৭৮ জনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করে। এসব সদস্য অন্তর্ভুক্তির বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন ও বিরোধ তৈরি হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নতুন করে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট প্রেসক্লাবে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভাকে ঘিরে সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়।
পরে প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান সাধারণ সভাটি স্থগিত ঘোষণা করেন।
সংঘাতের আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ সদস্য :
সাধারণ সভা স্থগিত হওয়ার পরও প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব, কমিটি ও নির্বাচন নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে সদস্য সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি প্রেসক্লাবের নির্বাচন ও কমিটির কার্যক্রম নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করে মামলা করেন।
মামলাটির শুনানি শেষে আদালত সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনসহ কমিটির সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আদালতের এই আদেশের ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রেসক্লাবের নির্বাচন, কমিটি গঠন এবং কমিটি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিরোধের কেন্দ্রে কমিটি ও নেতৃত্ব :
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে কমিটি গঠন, সদস্যপদ প্রদান এবং প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান সংগঠনটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার ফলে আপাতত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও কমিটি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে আইনি বাধা তৈরি হলো। এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনার দিকেই তাকিয়ে আছেন প্রেসক্লাবের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।




