কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চককামদেব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বি.এম (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট) কলেজ। ২০০৪ সালের ১৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু স্বীকৃতির ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি কলেজটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমসহ অন্যান্য ব্যয়।
অর্থসংকটের কারণে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে নিয়মিত বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় তাঁদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৪৬ জন। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও আর্থিক নিশ্চয়তার অভাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির পাশাপাশি একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কলেজটি টিকিয়ে রেখেছি। ফলাফলের দিক থেকেও আমাদের কলেজ সব সময় ভালো অবস্থানে রয়েছে। অথচ এত বছরেও এমপিওভুক্তি হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন-ভাতার নিশ্চয়তা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমরা সব প্রতিকূলতার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর কত দিন চলবে? শিক্ষক-কর্মচারীদেরও পরিবার রয়েছে। তাঁদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত কলেজটি এমপিওভুক্ত করা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম গোলাম আজম বলেন, ‘একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। দীর্ঘদিন ধরে একটি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষকদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। কলেজটির এমপিওভুক্তি এবং একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
তবে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা খুবই নাজুক। একাডেমিক অবস্থাও ভালো না।’
একাডেমিক সুপারভাইজারের এমন মন্তব্যে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভালো ফলাফলের দাবি এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত শিক্ষার মানের মধ্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে শুধু এমপিওভুক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে ভবিষ্যতে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় কলেজটির এমপিওভুক্তি, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা, একাডেমিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলেজটি এমপিওভুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্দশা লাঘব হবে। একই সঙ্গে মান্দার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।




