নওগাঁর মান্দায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং শিশুদের আম পাড়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রবি ও সোমবার সকালে উপজেলার ভারশোঁ ও পরানপুর ইউনিয়নে এ দুটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম।
পৃথক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিক চিরুনি অভিযান চালিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক ইউনিয়ন সভাপতিসহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে।
নিহতরা হলেন উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ছুটিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মেহের আলী শাহের ছেলে আব্দুল হামিদ (৬৫) এবং পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামের মৃত দ্বীন মোহাম্মদ ওরফে দিনা মোল্লার ছেলে তৈয়বর আলী মোল্লা (৭০)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১ নং ভারশোঁ ইউনিয়নের ছুটিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিহত আব্দুল হামিদের সঙ্গে শরিকান জমিজমা নিয়ে প্রতিবেশী হায়দার আলী শাহের দীর্ঘদিনের বিরোধ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হায়দার আলী শাহের নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিবাদমান জমি জোরপূর্বক জবরদখল ও হালচাষ করতে যান। আব্দুল হামিদ নিজের ভোগদখলীয় জমি রক্ষা করতে বাধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে ভারশোঁ ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি আপেল মাহমুদ ও তার চাচা আব্দুল মতিনসহ অন্যরা লাঠিসোঁটা দিয়ে আব্দুল হামিদকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে।
এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতাসহ ৪ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, হায়দার আলী শাহ (৬২), তার ভাতিজা ও ছাত্রশিবির সভাপতি আপেল মাহমুদ (২৫), আব্দুল মতিন (৪০) এবং আলেফা বিবি (৫০)।
এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের হাটোইর গ্রামে গাছ থেকে বাচ্চাদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে তৈয়বর আলী মোল্লা নামের আরেক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিপক্ষ ইমরান হোসেনের আট বছরের শিশুসন্তান শাকিল প্রতিবেশী জালাল হোসেনের গাছ থেকে আম পাড়ে। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল মোমিন ওই শিশুকে চড়-থাপ্পড় দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পূর্ব বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে ইমরান ও তার লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আব্দুল মোমিনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে বাধা দিতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ ৪ জন জখম হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাড়ির পাশের রাস্তায় প্রতিপক্ষরা আবারও তাঁদের ওপর চড়াও হলে বৃদ্ধ তৈয়বর আলী মোল্লা তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষরা তাঁকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে অভিযুক্ত পিতা-পুত্রকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
আটককৃতরা হলেন, হাটোইর মধ্যপাড়া গ্রামের সৈয়ব আলী (৬২) ও তাঁর ছেলে স্বাধীন (২২)।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, জমি সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে ৪ জন এবং আম পাড়ার ঘটনায় ২ জনসহ মোট ৬ জনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। উভয় ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।











