নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মো. শফিকুল ইসলাম সৈকত (২৮) ও ইব্রাহিম খলিল জুয়েল (৩৫) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে তাদের নোয়াখালী আমলি আদালতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ।
এর আগে মঙ্গলবার (৮ জুন) রাতে সোনাইমুড়ি বাজারে সৈকতের মালিকানাধীন ‘দুবাই বোরকা হাউস’ দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় উপজেলার ‘জুয়েল ফার্নিচার’ দোকান থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি বোরকার দোকানে চাকরির সময় ওই গৃহবধূর সঙ্গে সৈকতের পরিচয় হয়। পরে পরিচয়ের সূত্র ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সৈকত। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন সৈকত। পরে ওই ভিডিও ভুক্তভোগীর প্রবাসী স্বামীর কাছেও পাঠানো হয় এবং বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোট তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয় এবং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ভয় থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগী পাশের বাসার জুয়েলের সহায়তা চান। তবে সহায়তার কথা বলে জুয়েল ভিডিও সংগ্রহ করে নিজেও ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন এবং ভুক্তভোগীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছেও ভিডিও পাঠান।
ডাকাতির সময় মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৬
এ ঘটনায় (৭ জুন) ভুক্তভোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাছরিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি থানায় রেফার করেছি। সোনাইমুড়ি থানায় মামলা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে।
সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।











