দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে ইলিশের ভরা মৌসুমে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও ঘাট ছাড়তে পারছে না পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুরের শত শত মাছ ধরার ট্রলার। মূলত স্থানীয় বরফ কলগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। অতিরিক্ত দাম দিয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী বরফ মিলছে না বলে জানিয়েছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকার বিভিন্ন বরফকলের বেশির ভাগ কল বন্ধ। বরফের অপেক্ষায় ৪-৫ দিন ধরে ঘাটে নোঙর করে আছে অনেক মাছ ধরার ট্রলার। মাছ ধরার সরঞ্জাম ও বাজার নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও বরফ না পাওয়ায় সাগরে যেতে পারছে না তারা।

আলীপুর-মহিপুর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩৬টি বরফকল রয়েছে। এসব কলের কোনোটি দিনে ২০-২৫ ক্যান, আবার কোনোটি সর্বোচ্চ ২০০ ক্যান পর্যন্ত বরফ উৎপাদন করে। তবে প্রায় ১০ দিন ধরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে স্থানীয়ভাবে যে পরিমাণ বরফ তৈরি হচ্ছে, তা দিয়ে ট্রলারগুলোর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

৪ দিন ধরে বরফের অপেক্ষায় থাকা এফবি নিশাত ট্রলারের জেলে শুক্কুর বলেন, একটি ট্রলারে সাগরে মাছ ধরতে গেলে ২০০-২২০ ক্যান বরফ প্রয়োজন হয়। কিন্তু ৪ দিন অপেক্ষা করেও ১ ক্যান বরফ পাওয়া যায়নি। বরফ ছাড়া মাছ সংরক্ষণ করে সাগরে মাছ ধরা সম্ভব নয়।এছাড়াও ঘাটে নোঙর করা এফবি তামান্না, এফবি মা মনি ও এফবি কামালসহ শত শত ট্রলারেরও একই অবস্থা। বরফ না পাওয়ায় অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ে সাগরে যেতে পারছে না।

বরফের সংকটের ঘাটতি মেটাতে ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় ট্রাকে করে বরফ আনছেন। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছ সংরক্ষণ ও সরবরাহের খরচও বাড়ছে।

লোডশেডিংয়ের বিষয়টি পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেম নিশ্চিত করে বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট, বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। মোট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৫২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বাকি ৪৮ শতাংশ ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।