পিরোজপুরে বিনামূল্যে ভায়া পরীক্ষা। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরায়ুমুখ ক্যান্সার শনাক্তে স্বাস্থ্যসেবা

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এবং জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ভায়া (VIA—Visual Inspection with Acetic Acid) পরীক্ষা চালু রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হলেও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এর পূর্বাবস্থা বা প্রাথমিক পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের উদ্দেশ্য হলো ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার আগেই জরায়ুমুখের অস্বাভাবিক কোষ শনাক্ত করা। সময়মতো চিকিৎসা করা হলে ক্যান্সারে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।
ভায়া পরীক্ষায় জরায়ুমুখে অ্যাসিটিক অ্যাসিড প্রয়োগ করে চোখে দেখে অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় সন্দেহজনক পরিবর্তন পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা, চিকিৎসা বা বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হয়। WHO-এর নির্দেশনায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে HPV DNA পরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, যেসব স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি সেখানে VIA একটি ব্যবহৃত স্ক্রিনিং পদ্ধতি।
বাংলাদেশের সরকারি ক্যান্সার স্ক্রিনিং ড্যাশবোর্ডেও ২০২৬ সালে বিপুলসংখ্যক নারীর VIA স্ক্রিনিংয়ের তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালের কেসভিত্তিক তথ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯ জনের VIA পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ হাজার ৪৮৫ জনের ফল পজিটিভ এসেছে।
উপসর্গ না থাকলেও পরীক্ষা জরুরি
জরায়ুমুখের প্রি-ক্যান্সার পর্যায়ের পরিবর্তনে অনেক সময় কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ থাকে না। ফলে শুধু উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে বয়স ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। WHO বলছে, প্রি-ক্যান্সার শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা করলে জরায়ুমুখ ক্যান্সারে অগ্রসর হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ক্যান্সার কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা যায়।
তবে “পূর্ব লক্ষণ ধরা পড়লে ক্যান্সার থেকে বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ”—এমন নিশ্চয়তামূলক দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বলা ঠিক নয়। বরং বলা যায়, প্রি-ক্যান্সার বা ক্যান্সার যত দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।
পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে কার্যালয়টির সরকারি যোগাযোগের তথ্যও প্রকাশিত রয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাটি নিতে আগ্রহী নারীদের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জরায়ুমুখ ক্যান্সার নিয়ে লজ্জা বা ভয় নয়—সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা হতে পারে জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই উপসর্গ না থাকলেও উপযুক্ত বয়সে নারীদের নিয়মিত জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।