গাজীপুর সদর মেট্রো থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে জয়দেবপুর রেলগেটে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত অভিযান

গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হিসেবে পরিচিত জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকানপাট বসানোর কারণে প্রতিদিনই এ এলাকায় যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করতে না পারায় অনেককে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
গাজীপুর সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রুবেলের উদ্যোগে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।
অভিযানের সময় সড়ক ও ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট ও দখল সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জয়দেবপুর রেলগেটের আশপাশের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে দোকান বসানো হয়েছে। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা কমে গিয়ে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে এ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা গেলে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে পরিচালিত এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পথচারী ও বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানো না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের আশা, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জয়দেবপুর রেলগেট এলাকায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কিছুটা হলেও গাজীপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।