রাজধানীর খিলক্ষেতে চোরাই আলামত উদ্ধারে যাওয়া র্যাব ও পুলিশের যৌথ আভিযানিক দলের ওপর হামলার ঘটনায় মো. মিজানুর রহমান রেনু নামে এক বিএনপি নেতার নাম উঠে এসেছে। খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনুর বিরুদ্ধে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া, উসকানি প্রদান ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবারের (১২ অক্টোবর) এ ঘটনায় রেনুসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হামলায় র্যাব ও পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. সাজু (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া মডেল থানায় করা একটি মামলার পলাতক আসামি মো. রিয়াজুল ইসলামকে (৪৫) সোমবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিয়াজুল জানান, মামলার আলামত হিসেবে আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি সোনার চেইন খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার টানপাড়া রোডের অনন্যা জুয়েলার্সে রবীন্দ্রনাথ সরকার নামের এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে চেইনটি উদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত নয় সদস্যের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গতকাল দুপুরে অনন্যা জুয়েলার্সে যায়।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানে আইনি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর খিলক্ষেত থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান রেনুর নেতৃত্বে মো. সাজু, বাবলুসহ সাত-আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা যৌথ আভিযানিক দলটিকে চারদিক থেকে ঘেরাও করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় রেনু উপস্থিত লোকজনকে সোনার চেইন ফেরত না দেওয়ার জন্য উসকানি দেন এবং ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে জনতাকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, আভিযানিক দলের সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় রেনু ভারী লোহার রড দিয়ে কনস্টেবল মাহবুবুল হোসেন তপনের মাথায় আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। তপন হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে গুরুতর জখম হয়। পরে তার হাঁটুতেও আঘাত লাগে। এ ঘটনায় তাকে গুরুতর আহত করা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া সাজুর বিরুদ্ধে র্যাবের ল্যান্স কর্পোরাল মো. ইসরাইল হোসেনের শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি ধারালো ছুরি দিয়ে তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। বাবলুর বিরুদ্ধে লাঠি দিয়ে কনস্টেবল গোলাম মোর্শেদকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রেনু, বাবলুসহ অন্য অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
হামলায় আহত র্যাব ও পুলিশের তিন সদস্যকে উদ্ধার করে উত্তরা কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক একেএম জামাল উদ্দিন খান বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলায় বেআইনি জনসমাবেশ, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ এবং হত্যাচেষ্টার মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খিলক্ষেত থানার ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমানকে।
তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি (অপারেশনস) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এমন হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করছি। এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামি মিজানুর রহমান রেনু ও বাবলুসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। কোনো অজুহাতে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’




