কুড়িগ্রামেরবিভিন্নউপজেলায়চলতিআমনমৌসুমেতীব্রখরাওসেচসংকটেরকারণে বিক্ষিপ্তভাবেআমনধানক্ষেতেমিলিবাগ (ছাতরা) পোকারআক্রমণছড়িয়েপড়েছে।এতেসোনালীস্বপ্নেরফসলনিয়েচরমদুশ্চিন্তায়পড়েছেনস্থানীয়কৃষকরা।কৃষকদেরঅভিযোগ,
বাজারেপ্রাপ্তবিভিন্নকীটনাশকপ্রয়োগকরেওকোনোসুফলমিলছেনা।উপরন্তু, সংকটকালীনএইমুহূর্তেকৃষিবিভাগেরমাঠপর্যায়েরকর্মীদের (উপ–সহকারীকৃষিকর্মকর্তা) কাছথেকেমিলছে না কোন ধরণেরসহযোগিতাবাপরামর্শ।
চলতি
আমন মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১লক্ষ ২১হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের
লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলনও আশানুরুপ হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে আগাম ধান
কর্তন শুরু করেছেন। তবে ভালো ফলনের মাঝেও জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়
বিক্ষিপ্তভাবে আক্রমণ করেছে মিলিবাগ বা ছাতরা পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমন।
পরিমানটা কম হলেও জেলার প্রায় দেড় শতাধিক কৃষকের প্রায় ৮ থেকে ১০ হেক্টর জমির আমন
ধান বিনষ্ট হয়েছে। কৃষি বিভাগ দমনের কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন এলাকায় নতুন
নতুনভাবে মিলিবাগ পোকার আক্রমন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দোরগোড়ায় এখন
পর্যন্ত পা পরেনি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের। ফলে যেসব ধানে মিলিবাগ আক্রমন
করেছে সেসব জমির পুরো ক্ষেতেই বিস্তার লাভ করছে মিলিবাগ পোকা। পুড়ে অঙ্গার হয়ে
যাচ্ছে ধানক্ষেত। এদিকে দীর্ঘদিনবৃষ্টিনাহওয়াএবংতীব্রখরারকারণেজমিতেপ্রয়োজনীয়পানিনাথাকায়এইপোকারপ্রাদুর্ভাবঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীটনাশক
প্রয়োগ করেও সুফল পাচ্ছে না বলে কৃষকের অভিযোগ।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাধাবল্লভ এলাকার কৃষক রফিক, লিয়াকত,
আমিনুল ও ছফিয়াল অভিযোগ করেন আমাদের প্রায় আড়াই বিঘা জমির ধান লালবর্ণ হয়ে পুড়ে
যাচ্ছে। পোকারআক্রমণঠেকাতেবাজারথেকেচড়াদামেবিভিন্নকোম্পানিরকীটনাশককিনেএনেবারবারপ্রয়োগকরেও মিলছেনাকোনোসুফল।জমির পুরোটাই আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে।
পার্শ্ববর্তী
উলিপুর উপজেলার দামালখামার গ্রামের কৃষক
হযরত আলী ও নবিউল জানান, প্রথমে জমির রাস্তার পাশে অল্প কিছু ধানের থোরে আক্রমন
করে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো জমিটাই গ্রাস করে। মনে হয় যেন আগুনে পুড়ে গেছে ক্ষেত।
এদিকে
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সারডোব গ্রামের কৃষক জলিল, কবির ও সমশের জানান,
এখানে বিক্ষিপ্তভাবে ১০ থেকে ১২ জনের জমির কিছু অংশ পুড়ে গেছে। এখনো কৃষি অফিস
থেকে কেউ খোঁজখবর করে নাই।
তবে,
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রচন্ড খরার কারণে জমি শুষ্ক হয়ে
যাওয়ায় মিলিবাগ পোকার আক্রমণ হয়। জমিতে পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করে আদ্রতা বজায়
রাখলে প্রাকৃতিগতভাবে পোকার উপদ্রব দ্রুত কমে আসে। পাশাপাশি মাঠেরযেসবগাছইতিমধ্যেপ্রচণ্ডভাবেআক্রান্তবামরেগেছে,
সেগুলোশিকড়সহউপড়েফেলেমাটিরনিচেপুঁতেফেলতে হবেঅথবামাঠথেকেদূরেনিয়েপুড়িয়েধ্বংসকরতে হবে।
কুড়িগ্রাম
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) কৃষিবিদ তানভীর আহমেদ
সরকার জানান, মাত্র দেড় থেকে দুই হেক্টর জমিতে মিলিবাগ আক্রান্ত হয়েছে। তবে এই
কর্মকর্তার কাছে পুরো জেলার আক্রান্ত হওয়ার কোন তথ্য নেই। সরজমিন কুড়িগ্রাম সদর,
রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিক্ষিপ্তভাবে মিলিবাগ
আক্রান্ত হয়ে জমি পুড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা জানিয়েছে প্রায় ৮/১০ হেক্টর
জমিতে এই পোকার আক্রমন ঘটেছে। এতে প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কৃষিবিদ
তানভীর আহমেদ সরকার আরও জানান, এবারে বৃষ্টিপাত কম, বন্যাও তেমনটা হয় নি। এদিকে
কৃষকরা জমিতে পর্যাপ্ত সেচ দেয়নি, চলছে খরার প্রকোপ, পাশাপাশি বালুমাটি ও উঞ্চ
আবহাওয়ার কারণে মিলিবাগ পোকার আক্রমন হয়ে থাকে। এরফলে দেড় থেকে দুই হেক্টর জমিতে
মিলিবাগ পোকার আক্রমন হয়েছে। আমাদের পরামর্শের ফলে সেটি দমন হয়েছে। সামনে এই পোকার
প্রাদুর্ভাব বাড়ানোর কোন সম্ভাবনা নেই।




