খুলনার কয়রায় সরকারি জমি ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, আটক ২

‎​খুলনার কয়রায় ১৩ শতক সরকারি জমি দখল এবং কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী (৫২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
‎​বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে দুই নারীকে আটক করেছে।
‎​এর আগে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম রব্বানী ওই গ্রামের বাসিন্দা।
‎​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়ি মৌজায় গ্রামীণ সড়কের পাশে থাকা ১৩ শতক সরকারি জমি এবং সেখানকার কলাগাছের কলা কাটার অধিকার নিয়ে গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন দা, শাবল, রড ও লাঠি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
‎​সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানী ছাড়াও তাঁর পরিবারের তিন সদস্য—ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) এবং মা রাহিলা বেগম (৫৫) গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গোলাম রব্বানীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।
‎​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
‎

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top