মাদক পাচারের দৃশ্য দেখে ফেলায় ডাকাত মান্নানের হাতে শিশু গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজারের টেকনাফের মিনাবাজার সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের দৃশ্য দেখে ফেলার জেরে স্থানীয় জয়নালের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুর্ধর্ষ ডাকাত মান্নান বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ সময় দুই শিশু-কিশোর গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত হয়েছে। গুরুতর আহত শিশু আহমেদ নুরকে (১২) উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকার হাফেজ জয়নালের বসতবাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

​আহতরা হলো- উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে আহমদ নুর (১২) এবং মোস্তাকের ছেলে আরাফাত (১৬)। তারা উভয়েই সম্পর্কে চাচাতো ভাই।

​ভুক্তভোগীদের চাচা হাফেজ জয়নাল ‘বার্তা বাজার’-কে জানান, বুধবার রাতে মোস্তাক মিনাবাজার সীমান্তসংলগ্ন খালে জাঁকিজাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। রাত সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্ত পেরিয়ে মিনাবাজার এলাকার ইউসুফ আলীর দুই ছেলে মান্নান ডাকাত ও সালেহ ডাকাতকে মাদকের চালান নিয়ে আসতে দেখে ফেলেন মোস্তাক। এরপর মোস্তাক ভয়ে বাড়িতে চলে আসেন। মোস্তাক বাড়িতে ফিরে আসার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মান্নান ডাকাত ও সালেহ ডাকাতের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হাফেজ জয়নাল তথা মোস্তাকের বাড়িতে এসে সশস্ত্র হামলা চালায়। এ সময় শিশু আহমেদ নুরের পেটে গুলি লাগে এবং আরাফাত ছুরিকাঘাতে আহত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন দেওয়া হলে পুলিশ আসছে- এমন সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

​তিনি আরও জানান, পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুলিবিদ্ধ আহমেদ নুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত আরাফাত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

​রাত গভীর হওয়ায় এ ঘটনায় টএকনাফ থানা পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এই ঘটনার পরে দুর্ধর্ষ মান্নান ডাকাত গ্রুপকে বাঁচাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কথিত বন্ধু পরিচয় দানকারী হোয়াইক্যং ঝিমংখালী এলাকার কাসেম নামের এক ব্যক্তি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তৎপরতা শুরু করেছেন।

​স্থানীয়রা বলছেন, মিনাবাজার সীমান্ত এলাকাটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি’ (এআরএ)-এর প্রধান সন্ত্রাসী নবী হোসেন ও ত্বকী আইয়ুবের হয়ে নিয়ন্ত্রণ করে মিনাবাজার এলাকার মান্নান ডাকাত ও তার সহোদর মোহাম্মদ সালেহ ডাকাত, সদস্য শামীম ডাকাত, নয়াবাজারের লালিয়া এবং নয়াবাজার শিয়াইল্লা মুরার নিয়ন্ত্রক রোহিঙ্গা নূর সালাম। অপরাধ সাম্রাজ্য নির্বিঘ্ন করতে মান্নান ডাকাত নাফ নদের সীমান্তসংলগ্ন মাছের ঘেরগুলো মূল মালিকের কাছ থেকে গোপনে লিজ নিয়ে রাখেন।

​পুলিশের তথ্য বলছে, এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অন্তত এক ডজনের বেশি মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। সম্প্রতি ‘বার্তা বাজার’-এ ডাকাত মান্নান গ্রুপের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top