কালীগঞ্জে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গর্ভপাতের অভিযোগ

 
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মারায় গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একই ঘটনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে মারধর এবং তাঁর বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগও উঠেছে। আহত স্ত্রীকে যশোর এবং বোনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী রুবেল হোসেন গত ১৭ অক্টোবর সোহাগ হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের চার দিন পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তৈলকুপী গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী সোহাগের পরিবারের বিরোধ ছিল। এর জের ধরে গত ৫ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে সোহাগের নেতৃত্বে ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুবেলের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা রুবেলকে মারধর করতে থাকলে তাঁর আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাবিহা খাতুন তাঁকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন তাঁর পেটে লাথি মারা হলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে ভাই ও ভাবিকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রুবেলের বোন পপি খাতুনকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ধারালো দা দিয়ে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা রুবেলের টিনের বসতঘর ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরে স্থানীয়রা আহত সাবিহা ও পপিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাবিহাকে যশোর এবং পপিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। রুবেল হোসেনের দাবি, যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
পেশায় ইজিবাইকচালক রুবেল হোসেন বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। স্ত্রী ও বোনের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় অভিযোগ দিতে দেরি হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালনে পুলিশের ব্যস্ততার কারণে অভিযোগের তদন্তে কিছুটা দেরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাং ২২/১০/২৬
কালীগঞ্জ,ঝিনাইদহ 
০১৭১৭-৫৮২০৩৭

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top