নদীতে মাছধরার ৮ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে ঝালকাঠি জেলার ৭ হাজার ৪৯৪ জন জেলে। তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল পেয়েছে ৪ হাজার ২০০ জনে। অবশিষ্ট ৩ হাজার ২৯৪ জন জেলে এদফায় চালের সহায়তা পাননি। একদিকে মাছ ধরতে না পারায় আয় বন্ধ, অপর দিকে ঋনের কিস্তি ও সংসারের অন্যান্য খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
জেলেরা বলেছেন – চলতি মৌসুমে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় নিষেধাজ্ঞার আগেই তাদের আয় রোজগার কমে গিয়েছিলো। এখন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। এমতাবস্থায় নিষেধাজ্ঞার সময় ঋনের কিস্তি আাদায় বন্ধ রাখা এবং সরকারের পূনর্বাসনের সহায়তা বাড়ানোর দাবি জেলেদের। জেলে মোঃ হানিফ মাবজমিনকে জানান – এই অবরোধে সরকারের নিবন্ধিত জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দিয়েছে। আমার পরিবারে ৭ জন সদস্য, প্রতিদিন ৩ কেজি করে চাল রান্না করতে হয়। বাকী দিনগুলো কিভাবে চলবো তা ছাড়া চালের সাথে আনুষঙ্গিক আরো অনেক খরচ আছে। জেলে সুমন জানান – অবরোধের আগে থেকেই নদীতে মাছ ছিলো না। ঋনের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। অবরোধের সময় সরকার কে কিস্তি বন্ধ রাখার একটা ব্যাবস্থা করা উচিৎ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ এনামুল হক বলেছেন – আমরা ৭ হাজার ৪৯৪ জন জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাহিদা দিয়েছিলাম। কিন্তু পেয়েছি ৪ হাজার ২০০ জনের। তাই শতভাগ জেলেদের কে ২৫ কেজি সহায়তার চাল দেয়া সম্ভব হয়নি। জেলা মৎস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ঝালকাঠিতে মোট ৭ হাজার ৪৯৪ জন জেলেদের মধ্যে ৪ হাজার ২০০ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। ফলে এ দফায় সহায়তার বাহিরে রয়েছে ৩ হাজার ২৯৪ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় আয় বন্ধ থাকায় জেলেদের পুনর্বাসন সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋনের কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন জেলে পরিবার।




