‎কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না পেয়ে দেড় মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

 
‎খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যথাসময়ে চিকিৎসক না পাওয়ায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা।
‎​মৃত শিশুটির নাম মুয়াজ আব্দুল্লাহ।
‎​শিশুটির মামা রাকিব হাসান অভিযোগ করে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিশুটি ভীষণ কান্নাকাটি করছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাকে দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।
‎​তিনি আরও জানান, ওই সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত কর্মীরা তাদের হাসপাতালের বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ কিনে আনতে বলেন। ওষুধ কিনে এনে দেওয়ার পর কর্মীরা শিশুটিকে নেবুলাইজার দিয়ে বসিয়ে রাখেন এবং জানান যে চিকিৎসক আসলে পরীক্ষা করবেন।
‎​রাকিব হাসানের ভাষ্যমতে, চিকিৎসকের অপেক্ষায় তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অবস্থান করেন। কিন্তু সকাল নয়টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিকিৎসার অভাবেই সকাল নয়টার দিকে শিশুটি মারা যায়। সময়মতো একজন চিকিৎসক সেবা দিলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনেরা।
‎​উপজেলা পর্যায়ের এই প্রধান হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে সরকারি হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সেবার মান ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
‎​ঘটনার বিষয়ে জানতে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
‎​তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করে যোগাযোগ করা হলে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
 
‎
‎

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top