সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধোয়া-মোছা বাবদ সোয়া দুই হাজার কোটি (২,২৫০ কোটি) টাকা ব্যয়ের একটি বিশাল অসংগতিপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের আওতায় এই ব্যয় বরাদ্দ বা বন্দোবস্তের প্রস্তাব তোলা হয়।
একনেক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে শুধুমাত্র স্কুল ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার রাখার খাতেই রাখা হয়েছে সোয়া ২ হাজার কোটি টাকা। একই প্রকল্পের আওতায় একেকজন শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস বা ইউনিফর্ম কেনা বাবদ প্রায় পৌনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ দেখানোর মতো অস্বাভাবিক ও অসংগতিপূর্ণ হিসাবের বিবরণীও উঠে এসেছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ অপচয় ও এমন বিপুল পরিমাণ অবাস্তব খরচের প্রস্তাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক স্তরের অবকাঠামোগত মূল উন্নয়নের চেয়ে ধোয়া-মোছা কিংবা পোশাক ক্রয়ের মতো খাস খাতে এমন অতিমূল্যায়িত বাজেট বরাদ্দ আমলাতান্ত্রিক অসংগতি এবং জবাবদিহিতার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।
এই প্রকল্পের খসড়া এবং ব্যয়ের অসংগতিগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে বিশদ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



