শিক্ষকরা বলছেন, ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও ২২ দিনেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। যার কারণে আজ থেকে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমপ্লিট শাটডাউন বা তালাবদ্ধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা,
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূর করা,
৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম, মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ, খাইরুন নাহার লিপি ও মু. মাহবুবুর রহমানসহ ২০২৩ ও ২০২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার প্রতিবাদে আজ দুপুর ১২টায় দেশের প্রতিটি উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।শিক্ষক নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শাটডাউন ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না। সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া হলে এক ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দিতে তারা প্রস্তুত। তবে দাবি আদায় ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন বন্ধ করা হবে না।
আজ সকালে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মো. আনোয়ার উল্যাহ বলেন, আমরা বাধ্য হয়েই শাটডাউনে গেছি। ২২ দিন ধরে প্রতিশ্রুতির অগ্রগতির অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু কোনো বাস্তব পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া স্কুল খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা চাই সমস্যা দ্রুত সমাধান হোক, শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরুক, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্বাভাবিক হোক। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি করা এখন সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে অভিভাবকরা বলছেন, বছরের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মবিরতি ও তালাবদ্ধ কর্মসূচিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে তাদের সন্তানরা। পরীক্ষার সময় শাটডাউনে শিশুদের পড়াশোনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে বলে তারা মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে।
রাশেদা বেগম নামের এক অভিভাবক বলেন, এভাবে হঠাৎ স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে ছোট ক্লাসের বাচ্চারা পড়াশোনা থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। বাসায় তো তারা ঠিকভাবে পড়তে চায় না। শিক্ষকদের দাবি থাকতে পারে কিন্তু এভাবে বন্ধ হলে ক্ষতিটা কিন্তু আমাদের বাচ্চাদেরই হয়।
জসীম উদ্দিন নামের আরেক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষা হচ্ছে না। যা নিয়ে আমাদের বাচ্চারাও দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার আর শিক্ষকরা বসে সমস্যার দ্রুত সমাধান না করলে এই ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হবে। আমরা চাই দুই পক্ষই আলাপ করে দ্রুত স্কুল খুলে দিক।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এখানে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকরা ইতোমধ্যে ১০ম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে আছেন। গ্রেড উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সমস্যা সমাধানসহ কয়েকটি দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন।
এর আগেও গত ৮-১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার কর্মবিরতিতে ফেরেন।
