ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই বলেছেন— “রাষ্ট্র হবে জালেমের বিরুদ্ধে মাজলুমকে রক্ষার প্রতিষ্ঠান, দুর্বলের অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিগত ৫৪ বছরে রাষ্ট্রকে জুলুমের যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে।”
আজ বুধবার বিকেলে পুরান ঢাকার সলিমুল্লাহ এতিমখানার সম্মুখে ঢাকা-৭ আসনে আয়োজিত এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুনভাবে রাষ্ট্র নির্মাণের সুযোগ এসেছে। সেই রাষ্ট্র হবে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র এবং আশ্রয়হীনকে আশ্রয় দেওয়ার প্রতিষ্ঠান। এজন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে হতে হবে।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৭ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান। শায়েখে চরমোনাই তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, “কুকুর-বিড়াল নিয়ে ছবি তোলা হলেও হাজারো মানুষ এখনো না খেয়ে রাস্তায় ঘুমায়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। তাই হাতপাখা মার্কায় ভোট দিয়ে গরীব মানুষের রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বলেন ‘পিআর খায় না মাথায় দেয়’, তারা পুরোনো বন্দোবস্ত ও দখলদারীর রাজনীতি জিইয়ে রাখতে চায়। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, তারা পিআর চায়। যারা পিআর বোঝে না তারা রাজনীতি থেকে ছিটকে যাবে।”
গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ, যুবনেতা ইলিয়াস হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসেন নূরসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতেয়াজ আলম। তিনি বলেন, “কোন চাঁদাবাজকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়নি।” সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বলেন, “আমরাও নির্বাচন চাই তবে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন আগে করতে হবে। আহতদের কষ্ট উপেক্ষা করে আগের ধারায় নির্বাচন হবে না।”
গণসমাবেশে দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই আনুষ্ঠানিকভাবে আলহাজ্ব আব্দুর রহমানকে ঢাকা-৭ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
