আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের মাঝে নতুন মোড় নিয়েছে ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনী সমীকরণ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই আপাতত ২৫০টি আসনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি রাজনৈতিক দল। আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

আসন বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট কাটাতে এবং ইসলামী আন্দোলনকে পুনরায় জোটে সক্রিয় করতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে। আজ মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ দলের শীর্ষ নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে এই মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেন। মামুনুল হক ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনকে নিয়েই পথ চলার প্রত্যাশা জোটের সবার। আজ রাতের সংবাদ সম্মেলনের আগে তাঁর এই প্রচেষ্টা সফল হলে প্রার্থী তালিকায় বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনকভাবে ৫০টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। যদি মামুনুল হকের মধ্যস্থতা সফল হয়, তবে এই আসনগুলোয় পীরের প্রার্থীরাই লড়বেন। আর যদি তারা শেষ পর্যন্ত জোটে না ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে ওই ফাঁকা রাখা আসনগুলোতে পরবর্তীতে বিকল্প প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

আজকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে মূলত কোন দল কতটি আসনে লড়বে তা চূড়ান্ত করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের শান্ত থাকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন সবার নজর মাওলানা মামুনুল হকের মধ্যস্থতার ওপর—তিনি কি পারবেন চরমোনাই পীরের দলকে এই ‘নির্বাচনী ঐক্যে’ ফিরিয়ে আনতে?