মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পান ম্যারাডোনা। ১৯৭৯ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেন আর্জেন্টিনাকে। সেই আসরেই দেশ প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপ জেতে, আর গোল্ডেন বল ওঠে তরুণ ডিয়েগোর হাতে। তখনই আর্জেন্টিনা বুঝে যায়—জন্ম নিয়েছে ফুটবলের নতুন সূর্য।
১৯৮২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামেন তিনি। অভিষেক আসরটা শেষ হয় ব্রাজিলের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে। কিন্তু অপেক্ষা ছিল চার বছর পরের মেক্সিকো বিশ্বকাপের জন্য- যেখানে রচিত হয় কিংবদন্তি! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল, ৫১তম মিনিটে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল, আর পরের মিনিটগুলোয় একক দৌড়ে পাঁচজনকে কাটিয়ে করা শতাব্দীর সেরা গোল—যা ফুটবলকে পরিণত করেছিল কবিতায়, শিল্পে, বিস্ময়ে।
বিবিসির ধারাভাষ্যকার তখন বলেছিলেন, “This is not football—this is pure poetry!” সেই গোলের পরই যেন আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ উঠে আসে ডিয়েগোর দুই কাঁধে। তিনি হয়ে যান এক দেশের প্রতীক, এক প্রজন্মের প্রেরণা।
এরপর ইতালির নাপোলি। দেশের বাইরে এক শহরকে বুকে টেনে নেন। সাত বছরে দলটিকে এনে দেন সিরি–আ লিগ, ইউরোপীয় কাপ। নাপোলসের শ্রমজীবী মানুষদের কাছে তিনি আজও দেবতার মতো। সেই শহরে আজও দেয়ালে দেয়ালে লেখা—“Grazie, Diego.”
তবে আলো–অন্ধকারের গল্পও ছিল তার জীবনে। ১৯৯১ সালে ড্রাগ–কাণ্ডে নিষিদ্ধ, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ–পরীক্ষায় ধরা পড়া—সবই এক অনিয়ন্ত্রিত প্রতিভার অন্য দিক। তবু ভক্তদের ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি। ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৪৬ গোল। ২০০৮ সালে কোচ হয়ে আবার আর্জেন্টিনার ডাগআউটে। ২০১০ বিশ্বকাপে মেসিদের নিয়ে পৌঁছে যান কোয়ার্টার ফাইনালে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, হৃদরোগে থেমে যায় সেই যাদুকরের হৃদস্পন্দন। ঠিক এক মাস আগে ৬০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন হাসপাতালে থেকেই।
তবু মৃত্যুর পরও থেমে নেই ম্যারাডোনার প্রভাব। ২০২২ সালে মেসির হাতে যখন আর্জেন্টিনা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে, তখন সারা পৃথিবী এক সুরে বলেছিল- ‘ডিয়েগো দেখছে, ওপার থেকে হাসছে।’
আজ ফুটবলের ঈশ্বরের ৬৫তম জন্মদিনে পৃথিবীর প্রতিটি বল, প্রতিটি শিশুর স্বপ্নে এখনো বেঁচে আছেন তিনি। ফুটবলের জাদুকর, চির অমর—ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা।
