কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি সরকারি পুকুরের অংশ মাটি ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কলার আড়তের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের আওতাধীন ওই পুকুরের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে ভরাট করা হচ্ছে। তবে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা, ভরাটের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কলার আড়তের পেছনে পুকুরের একটি অংশে মাটি ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
এ সময় আড়তের মালিকপক্ষের রিপন, কালাম ও হালিম সাংবাদিকদের জানান, পুকুর ভরাটের বিষয়ে তাদের কাছে ‘সাজু ভাইয়ের অনুমতি’ রয়েছে। পরে তারা মোবাইল ফোনে সাজু মিয়াকে ঘটনাস্থলে আসতে অনুরোধ করেন।
কিছুক্ষণ পর সাজু মিয়া সেখানে উপস্থিত হলে সাংবাদিকরা পুকুর ভরাটের অনুমোদন, জায়গাটির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়ে জানতে চান। তবে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করার জন্য সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সাজু মিয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি পুকুর ভরাটের বিষয়ে অনুমতি থাকার দাবি করলেও তার পক্ষে কোনো লিখিত নথি উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অনুসন্ধানী টিমের সদস্যরা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সরকারি জায়গা ভরাট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে অনুসন্ধানী টিম।
স্থানীয়দের বক্তব্য
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “পুকুরটি বহু বছর ধরে রেলওয়ের সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সেখানে নিয়মিত মাটি ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “যদি সরকারি পুকুর ভরাট হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব সবার।”
ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, “আমরা শুনেছি অনুমতির কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুমতির কোনো কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে সাজু মিয়া বলেন, “আমি অনুমতি নিয়েই কাজ করছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয়।”




