জাবির হলে জুনিয়রদের ডেকে গালাগাল, ৮ সিনিয়রকে মুচলেকায় ছাড়

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ডেকে আলোচনা করতে গিয়ে রাগারাগি ও গালাগালের ঘটনায় লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ ব্যাচ) আট সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের ১২৭ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

‎মুচলেকায় ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ঘটনার আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী ৫৫ ব্যাচের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ফুটবল ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করতে ওই কক্ষে বসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা ও গালিগালাজের ঘটনা ঘটে।


‎এ ঘটনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ‎মুচলেকা দেওয়া আট শিক্ষার্থী হলেন- জায়েদ উৎসব, প্রিন্স ঢালী, মো. রোকনুজ্জামান, জায়েদুল মনির অনন্ত, রাহাত শাহরিয়ার, আলিফ, রিক কুন্ডু ও ফারহান সিয়াম। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (৫৪ ব্যাচ) শিক্ষার্থী।

‎ঘটনায় থাকা জুনিয়র শিক্ষার্থীরা একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫ ব্যাচ)। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অসীম চন্দ্র রায় বলেন, এত রাতে কোনো হলেই নবাগত শিক্ষার্থীদের কোনো কক্ষে এভাবে ডাকা উচিত নয়। আসার পর আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বড় ভাইয়েরা স্বীকার করেছেন, আলোচনা করতে গিয়ে হয়ত একটু রাগারাগি ও গালিগালাজ হয়েছে। এ জন্য তারা অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

‎তিনি আরও বলেন, যেহেতু জুনিয়ররাও কোনো অভিযোগ করেনি, আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টি মীমাংসার দিকে এসেছে এবং তারা নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।