সাম্প্রতিক
ভূমিকম্প বিষয়ক সভা ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত ও বিশেষ সেল গঠনের সিদ্ধান্ত লক্ষ্মীপুরে মাটির নিচ থেকে ৩টি মর্টার শেল উদ্ধার রাকসু ভবনে পুলিশ রেইড দিলে অস্ত্রের কারখানা পাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি সিরাজদিখানে খাল খননের টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা সাপ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিবেদিত দীঘিনালার তরুণ হৃদয়, উদ্ধার করেছেন তিন শতাধিক সাপ নেত্রকোনায় মজলিসে শুরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে মহাসড়ক খুঁড়ে সুড়ঙ্গে ড্রেজারের অবৈধ পাইপ, ঝুঁকিতে নদীপাড়ের সড়ক হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে লালপুর থানার সাফল্য কচুয়া থানা পুলিশ কর্তৃক ২০১ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ০৩ জন গ্রেফতার”

সিরাজদিখানে খাল খননের টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জমা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় সরকারি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের একদিন পরই তড়িঘড়ি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ২৮ জুলাই সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সিরাজদিখান শাখায় উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোসা. সাজেদা সরকার মোট ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫২৫ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। এর মধ্যে ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় আয়কর বাবদ ৩৫ হাজার টাকা (ট্র্যাকিং নম্বর: ২৬২৭-০০০৬৫৩৪৭৮০), ভ্যাট বাবদ ৭০ হাজার টাকা (ট্র্যাকিং নম্বর: ২৬২৭-০০০৬৫৩২৪৮৬) এবং অতিরিক্ত উত্তোলিত ২৮ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ টাকা (ট্র্যাকিং নম্বর: ২৬২৭-০০০৬৫৩৯১৮৬) জমা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর সংবাদ প্রকাশের পর অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পে নির্ধারিত ১ হাজার ২০০ মিটার খালের পরিবর্তে মাত্র প্রায় ৬০০ মিটার খনন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, উপজেলার রশুনিয়া খালের দানিয়াপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশ থেকে মোতার জাহান বাড়ির দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, নথিপত্রে শ্রমিক দেখিয়ে বাস্তবে ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে কাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার (১,২০০ মিটার) খাল পুনঃখননের পরিবর্তে মাত্র প্রায় ৬০০ মিটার কাজ করেই প্রকল্প সমাপ্ত দেখানো হয়। এছাড়া কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী বিল উত্তোলনের বিধান থাকলেও, ২৫ এপ্রিল কাজ শুরু করে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ৩০ এপ্রিল ৩৬৩১১০৭ ক্রমিক নম্বর ও ০০০২৩৭৯৭ নম্বর টোকেনের মাধ্যমে প্রকল্পের সম্পূর্ণ ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ২৫ টাকা উত্তোলন করা হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১ দশমিক ২ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য প্রাক্কলিত মাটির কাজের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭২১ ঘনফুট। প্রকল্পে উপকারভোগী শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, নন-ওয়েজ খাতে ২৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং সর্দার ভাতা বাবদ ৪ হাজার ২৮০ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রতিদিন ৫০০ টাকা মজুরিতে ১০৭ জন শ্রমিককে নিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে ১৩ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা ছিল।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :