সাম্প্রতিক
লজ্জা থাকলে শেখ হাসিনা ওই মুখ দেখাতেন না: সারজিস ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে’: যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি রেফারিকে মেসি বললেন, ‘আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো’ টানা ভারী বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের কোটি টাকার পণ্য তলিয়ে গেছে পানিতে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’ সরানো হলো ৬ লাখের বেশি মানুষ ওরা আমাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে বেনাপোলে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার বন্যা মোকাবিলায় চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ১৯ মেডিকেল টিম, কার্যক্রম পরিদর্শনে সিভিল সার্জন গরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনা সমর্থক, উদ্ধার ১৭ গরু রামিসা, আছিয়া ও হাদী হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি

আশার আলোয় আলোকিত বগুড়া

বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জনাব তারেক রহমান। প্রিয় জন্মভূমির জন্য নিবেদিত এই কিংবদন্তির জন্মস্থান উত্তরের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া। ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এ জেলা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। কৃষিপণ্য সরবরাহ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বগুড়ার ওপর নির্ভরশীল আশপাশের একাধিক জেলা। এ মাটির প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ইতিহাস, সংগ্রাম, রাজনীতি এবং অগণিত মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন ও সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল এই জনপদ। সারা বিশ্বের ন্যায় রক্তে-মাংসে ও মাটির মিশ্রণে গড়া এ অঞ্চলের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘ সতেরো বছর ইতিহাসের সর্বাধিক ঘৃণিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রক্তচক্ষুর শিকার এই অঞ্চলের মানুষকে সইতে হয়েছে চরম অবহেলা ও পৈশাচিক নির্যাতন।

বিগত সময়ে বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস আর ঘোষণা দিয়ে গত ১৭ বছর কাটিয়ে দেয় ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। বগুড়ার উন্নয়নকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে নানা হীন পরিকল্পনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বগুড়াজুড়ে ছিল শুধুমাত্র অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের আর্তনাদ। বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বলে প্রতিহিংসায় সকল উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বছরের পর বছর। স্বৈরাচার হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কোনো উন্নয়ন করা হয়নি এ জেলায়। এরপরও থেমে যায়নি ইতিহাসের চরম ঘৃণিত এই স্বৈরশাসক। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা থেকে শুরু করে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর চালানো হয় সীমাহীন দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও জেল-জুলুম। কোনো কিছুই যেন জাতীয়বাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি বিএনপির দূর্গ হিসেবে সুপরিচিত এই জনপদকে।

ইতিহাসের চরম পৈশাচিক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে বগুড়াবাসী তাঁদের উন্নয়নের রূপকার জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে ঘরের সন্তান জনাব তারেক রহমানকে দেশবাসীর সেবায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেন দেশ ও বগুড়াবাসী। দীর্ঘ দুই যুগ বগুড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্প ও কৃষিসহ প্রতিটি খাতেই জমে ছিল অপূর্ণতার দীর্ঘ হিসাব। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই হিসাব যেন নতুন করে মেলাতে শুরু করেছেন বগুড়াবাসী।

বগুড়ার আলো, বাতাস, মাটি ও মানুষের একান্ত আপনজন জনাব তারেক রহমানের হাত ধরে বগুড়া নতুন রূপে সেজেছে। ঘরের সন্তান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী – জননন্দিত এই জননেতাকে ঘিরেই দীর্ঘ দুই যুগ পর আশার আলো দেখছেন এ জেলার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ছিল বগুড়াবাসীর জন্য এক অনন্য, ঐতিহাসিক ও আবেগঘন দিন। বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বগুড়ায় পা রাখেন এবং ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসভা নিয়ে ব্যস্ততম দিন কাটান জনাব তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। ভোরের আলোয় ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে তিনি সকালে বগুড়ায় পৌঁছান। এরপর সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ বিরতির পর ব্যস্ততম দিন শুরু করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ভাষণ
বগুড়া সফরের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে জেলার ঐতিহ্যবাহী আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। 

কিছু রাজনৈতিক দল দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কথা-বার্তা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দেশের মানুষ বিএনপিকে ম্যানডেট দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথা-বার্তা বলা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিশন করেছিল। তার মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে। আজকে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি আমরা।’ ‘যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে ওষুধ সহজে পেতে পারে, চিকিৎসা সহজে পেতে পারে, সে ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না,’ যোগ করেন তিনি।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না, কীভাবে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে সেটির কথা তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান এই বিষয়ে কথা বলে।’ ‘নির্বাচনের সময় আমি বিভ্রান্তকারীদের কথা বলেছিলাম। এই গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবার এখন বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আমরা দেখেছি, তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯৬ সালেও আমরা দেখেছি, স্বৈরাচারের সঙ্গে গিয়ে দেশের মানুষকে কীভাবে বিভ্রান্ত করেছিল। ২০০৮ সালেও আমরা দেখেছি, ওয়ান ইলেভেনের সঙ্গে যোগ দিয়ে তারা কীভাবে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড করতে চাই। ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্য ভাতা চালু করতে চাই, খাল খনন ও বৃক্ষ রোপণ করতে চাই। বেকার যুবকদের দেশে-বাইরে কর্মসংস্থান করতে চাই। এই সব ব্যাপারে তারা (বিরোধী দল) কোনো কাজ করে না। নির্বাচনের সময় বলেছিল, “রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড”, মনে আছে? জনগণের স্বার্থে যে কাজ, তা তারা রেখে দেয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা কীভাবে কুক্ষিগত করতে হবে, সেই কাজের জন্য তারা এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’

কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, তাদের অতীত ইতিহাস বলে দেয়, দেশ স্বাধীনের আগে ও পরে তারা কতবার চেষ্টা করেছে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে।’
জনগণকে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার প্রত্যেকটি আমরা বাস্তবায়ন করব, বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শেষাংশে বগুড়াবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি বগুড়া – সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেল লাইন নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরুর ঘোষণা দেন। সেই সাথে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুবিধার্থে বগুড়া বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। 

নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি 
বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভাকে সফল করতে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। মূলদলের পাশাপাশি যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মতৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। বিশেষ করে ছাত্রদলের ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল কার্যক্রম রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের প্রতিটি ইউনিটের আলোচনা সভা ও স্বাগত মিছিল দলীয় হাইকমান্ডের পাশাপাশি সাধারণ বগুড়াবাসীরও নজর কেড়েছে।

সফরপূর্ব এক বিবৃতিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলেন, “আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যাবে।” জনসভার দিন তাঁর সেই বক্তব্যের প্রতিফলন বাস্তবে ফুটে ওঠে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম রাকিবুল হাসান পলাশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সামস্ ইসলাম সাগরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এক বিশাল মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জনসভাস্থলে সমবেত হয়। ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠজুড়ে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার বলেন, “জনাব তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক আগমন বগুড়ার ছাত্রসমাজের জন্য প্রেরণার এক সূচনা। আজ আমাদের প্রিয় নেতা, বগুড়ার মাটির সন্তান আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। তাঁর এই সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি উত্তরবঙ্গের অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের এক নতুন দিগন্ত। ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী নেতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আগামীর সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। আলতাফুন্নেছা মাঠের এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম তাঁর নেতৃত্বের প্রতি কতটা আস্থাশীল। আমরা রাজপথে থেকে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নেতার হাতকে শক্তিশালী করতে সর্বদা প্রস্তুত।”

এদিকে দুপুর থেকেই জনসভাস্থল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। ধানের শীষ সম্মিলিত প্ল্যাকার্ড, বা ফেস্টুন, কৃষকের সাজে এসেছিলেন অনেক নেতাকর্মী। মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মাঠ ছাপিয়ে কোর্ট চত্বর, কালিবাড়ি, ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড়, সাতমাথা, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক, পুলিশ প্লাজা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। 

প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বগুড়া সফরের মধ্য দিয়ে জেলাজুড়ে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। সফরের প্রথমার্ধে তিনি সার্কিট হাউস থেকে পায়ে হেঁটে জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে পৌঁছান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে ও দুর্নীতি রোধে আধুনিক ‘ই-বেইল বন্ড’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সফরের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে তিনি দেশের ১৩তম শহর হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর উদ্বোধন করেন, যার ফলে দীর্ঘ ১৫০ বছরের পুরোনো পৌরসভার অবসান ঘটে এবং ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে আধুনিক নগর উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা শুরু হয়।

এরপর তিনি পৈতৃক ভিটা গাবতলীর বাগবাড়ীতে অবস্থিত জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল থেকে দেশব্যাপী ‘হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষির উন্নয়নে বাগবাড়ীর নশিপুর এলাকায় ‘চৌকিরদহ খাল’ খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করেন।

সফরের শেষ ভাগে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন বহুতল ভবন ও তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে গড়া বায়তুর রহমান মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর শাখা স্থাপনের দাবির প্রতি সদয় বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং প্রেসক্লাব চত্বরে একটি সোনালু ফুলের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন মুহূর্ত
দুই দশক পর পৈতৃক ভিটা ‘জিয়াবাড়ি’তে যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। বিকেল সাড়ে ৩টায় বগুড়ার গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৌঁছান তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জিয়া পরিবারের সদস্যরা। প্রিয় মানুষটিকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা।

আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় বাগবাড়ীবাসী, প্রায় দুই যুগ পর নিজ এলাকায়, নিজের গ্রামের বাড়িতে, এই স্কুল-কলেজ মাঠে আজ আবারও আপনাদের সঙ্গে একত্রিত হতে পেরেছি।”

এরপর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পুরো বাড়ি ঘুরে দেখেন তারেক রহমান। এ সময় শুধু জিয়া পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর পিতার পুরোনো ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং স্বজনদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন। তারেক রহমান প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন বাড়িতে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি পানি পান করেন।

চোখভরা অশ্রু নিয়ে ঘরের সন্তানকে বিদায়
নাড়ির টানে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন ও দিনভর নানা কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় নিলেন বগুড়ার গণমানুষের প্রিয় মুখ জনাব তারেক রহমান। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের বিশাল জনসমুদ্রে যে আবেগের জোয়ার তৈরি হয়েছিল, বিদায়ের লগ্নে তা যেন বিষণ্ণতায় রূপ নেয়। জনসভা শেষে তিনি প্রিয় এই জনপদের জন্য রেখে যান উন্নয়নের এক অনন্য স্মারক; যার উজ্জ্বল প্রমাণ হয়ে রইল স্বয়ং বগুড়াবাসী।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে বগুড়া ত্যাগ করছিলেন, তখন রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের চোখে ছিল প্রিয় সন্তানকে বিদায় দেওয়ার করুণ আর্তি। শেরপুরের আরডিএ হয়ে যাওয়ার পথে গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খোদ জনাব তারেক রহমানও। বগুড়ার মাটি ও মানুষের জন্য নিজের উন্নয়নের স্বাক্ষর এবং গভীর মমতাটুকু উজাড় করে দিয়ে, সবার দোয়া আর চোখের জলে সিক্ত হয়ে প্রিয় জন্মভূমি থেকে প্রস্থান করেন ঘরের এই কৃতী সন্তান।

আসবেন ফিরে মহান নেতা
বগুড়ার আকাশ-বাতাস আজ এক নীরব অপেক্ষায় স্তব্ধ। প্রিয় জন্মভূমির সন্তান যখন বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে ছিল একটাই প্রার্থনা— “আসবেন ফিরে হে মহান নেতা।” তিনি শুধু বিদায় নিয়ে যাননি, বরং জনগণের অন্তরে রেখে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা আর আগামীর এক সুন্দর স্বপ্ন। বগুড়াজুড়ে সেই উত্তাল জনসমুদ্রে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের চোখের জল আজ এই সাক্ষ্যই দেয় যে, মাটির টানে আর মানুষের ভালোবাসার টানে তিনি আবারও ফিরে আসবেন এই জনপদে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন ঝাণ্ডা হাতে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে আবারও প্রস্থুত থাকবে পুরো উত্তরবঙ্গ। এ বিদায় সাময়িক, তবে ফিরে আসার এই প্রতীক্ষা চিরন্তন। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তাঁদের দুঃখ-সুখের সারথি হয়ে খুব শীঘ্রই তাঁদের মাঝে আবারও আবির্ভূত হবেন তাদের এই জনন্দিত জননেেতা।

বগুড়াবাসীর দাবি এবং বিএনপির অবস্থান
দীর্ঘদিন অবহেলিত বগুড়াবাসীর দাবি, জেলার উন্নয়নে বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালু করা, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগর স্থাপন, অতিদ্রুত বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, সবজি হিমাগার নির্মাণ, কমপক্ষে চারটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ করে ও চরগুলো আধুনিকায়ন করে ট্যুরিস্ট স্পট নির্মাণ, যমুনার পাশে সার কারখানা স্থাপন, জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আরও আধুনিকায়ন, করতোয়া নদী সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন ফ্লাইওভার নির্মাণ, নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফিরিয়ে আনা, খেলাধুলার জন্য আধুনিক স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শিশুকিশোরদের জন্য বিনোদন স্পট, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য একাধিক মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে যমুনা নদী বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ, সুদের কারবার বন্ধ করা, মাদক, জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া মুখী করে গড়ে তোলা, বঞ্চিত হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট গড়া, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহজশর্তে সরকারি ঋণ দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রীর বড় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগ পর্যন্ত বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে বিএনপি সরকারের মাধ্যমে। এই সময়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হকের শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শন এবং এটিকে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে আইসিসি মানের ড্রেনেজ সিস্টেম, আধুনিক ড্রেসিংরুম ও ফ্লাডলাইট সংস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে শিবগঞ্জে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর ওপর ৫৯০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতু ও একটি আধুনিক সরকারি ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রশাসনিকভাবে এই সময়েই বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন এবং মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা হিসেবে ‘প্রাক-নিকার’ সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকীকরণের কারিগরি সমীক্ষা শুরু, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের ভূমি অধিগ্রহণ ত্বরান্বিত করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে রূপান্তরের গেজেট ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে নতুন ক্যান্সার ইউনিটের বাজেট ঘোষণা, বিসিক শিল্প নগরীতে উদ্যোক্তাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু, বগুড়া প্রেস ক্লাব ভবন আধুনিকায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে হাজার হাজার কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম এই সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সাতটি আসনের সংসদ সদস্যরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিতে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। জননেতার উন্নয়ন দর্শন বাস্তবায়নে তারা নিজ নিজ এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে তারা একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন।

“ধন্যবাদ হে মহান নেতা”
বগুড়ার ধূলিকণায় আজ যেন এক নতুন প্রাণের স্পন্দন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঘরের সন্তান যখন উন্নয়নের পসরা নিয়ে প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখলেন, তখন প্রতিটি বগুড়াবাসীর মনে একটাই তৃপ্তির সুর – ‘তিনি কথা দিয়েছিলেন, তিনি কথা রেখেছেন’। বগুড়াবাসী জিয়া পরিবার ও জনাব তারেক রহমানের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা আর বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন গত নির্বাচনে। সাতটি আসনের প্রতিটি ভোটকে ভালোবাসার প্রদর্শন বানিয়ে তারা তাঁদের প্রিয় নেতাকে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছিলেন। আজ সেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন জননন্দিত এই জননেতা।

বগুড়া সিটি করপোরেশন ঘোষণা থেকে শুরু করে সরাসরি রেল সংযোগ ও বিমানবন্দর চালুর ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সতেরো বছরের অবজ্ঞা আর বৈষম্যের শৃঙ্খল ভেঙে বগুড়া আজ উন্নয়নের এক সোনালী দিগন্তে পা রেখেছে। যে আধুনিক ও সমৃদ্ধ বগুড়ার স্বপ্ন তিনি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে লালন করেছিলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তার বাস্তব রূপ দিচ্ছেন। নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে মানুষের সুখে-দুঃখে একাত্ম হওয়ার এই মহানুভবতা বগুড়াবাসী চিরকাল স্মরণে রাখবেন। অবহেলিত উত্তরবঙ্গের ভাগ্যবদল এবং জন্মভূমির সম্মান পুনরুদ্ধারের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার জন্য বগুড়াবাসী চিরঋণী। মমতাময়ী এই কর্মযজ্ঞ আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা বেঁচে থাকুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কৃতজ্ঞতা এবং গভীর শ্রদ্ধা জানাই হে আমাদের আগামীর আলোকবর্তিকা— “ধন্যবাদ হে মহান নেতা”।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :