সাম্প্রতিক
সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ হাজার ৩৬৪ শিক্ষার্থীর ইরান যুদ্ধে সমর্থন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিনির: রয়টার্সের জরিপ দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার বঙ্গভবনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি নেতৃত্বাধীন কমিশনের বৈঠক চলছে মাদক মামলায় সখিপুরে একজনের যাবজ্জীবন রাজবাড়ীতে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৫ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে চালানবিহীন ট্রাকভর্তি ৩৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ ভোলা বোরহানউদ্দিনে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নে কৃষকের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: নিহত ২, আহত ২০, কয়েকটি বাড়িতে আগুন চার বছরে বেকারি পণ্য সরবরাহকারী থেকে ৩২ দোকান ও প্লটের মালিক, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

উপহাসের নাম আমুয়া ধোপাবাড়ীর রাস্তা: তিন নম্বর ইটে হচ্ছে সরকারি উন্নয়ন কাজ!

​ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া হাসপাতাল ব্রিজ সংলগ্ন ধোপা বাড়ির রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অর্থের অপচয় করে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
​সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। রাস্তাটির এজিং (পার্শ্ববর্তী ধার) তৈরিতে ৩-৪ নম্বর মানের ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নিচের ম্যাকাডাম (ভিত্তি) তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
​অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) আওতাধীন ‘UTMIDP’ প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কাজটি রাজাপুরের একজন ঠিকাদার দেখাশোনা করলেও, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম রয়েছে স্বনামধন্য ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন’-এর।
​এই বিষয়ে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা ‘রং নম্বর’ বলে জানা যায়। এদিকে, সাইট পরিচালনাকারী মনির হোসেন অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, “কিছু নিম্নমানের ইট এসেছে আমরা খেয়াল করেছি, তবে এখন আর কিছু করার নেই। পরবর্তীতে আর এমন ইট আসবে না।”
​অভিযোগের বিষয়ে এলজিইডি (LGED) কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তারা এজিংয়ের ইট পরিবর্তন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি তা পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছে।
​স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুরো রাস্তার এজিং এবং নিচের ম্যাকাডামে যে পরিমাণ নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে এই রাস্তা টেকসই হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি সরাসরি সরকারি অর্থের অপচয়। আমরা চাই তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং কাজ মানসম্মত করা হোক।”
​প্রকল্পের কাজে এমন দায়সারা তদারকি এবং নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহার বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :