কেরানীগঞ্জে মাদক স্পট ও সহিংসতার অভিযোগ, RAB-এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুঠিয়া কলম ফ্যাক্টরি ও নুমানিয়া মাদ্রাসা গলি সংলগ্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, কথিত মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ, প্রকাশ্য সহিংসতার হুমকি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে গোপন গোয়েন্দা অনুসন্ধান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB)-এর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, নুমানিয়া মাদ্রাসা গলির পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি চায়ের দোকান ও এর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দোকানটি জামাল/জসিম নামে পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, ওই এলাকার বিভিন্ন কথিত মাদক স্পট সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অবগত রয়েছেন। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জুয়েল বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে জুয়েলের মোবাইল নাম্বার ০১৯২২-১৫১২৩৬ । তবে এসব তথ্যের সত্যতা মাঠপর্যায়ে গোপন অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পুলিশের উপস্থিতির সামনেই কাউকে পুলিশ সদস্য মনে হলে তাকে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ সহিংসতার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি অতীতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তারেক নামে এক পুলিশ সদস্যের বাসাভাড়া সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি চায়ের দোকানে এক সাবেক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে তারেকের মোবাইল নাম্বার 01712317296 । আবেদনে দাবি করা হয়, মারধরের ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও স্থানীয় ব্যক্তির ছত্রছায়া বা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কথিত মাদক স্পট পরিচালিত হচ্ছে। তবে কোনো ব্যক্তিকে পূর্বেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী RAB-এর কাছে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—এলাকায় গোপন গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও নজরদারি, কথিত মাদক স্পটে আইনানুগ অভিযান, মাদক সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের শনাক্তকরণ, প্রকাশ্য সহিংসতার হুমকির তদন্ত, মারধরের ঘটনা তদন্ত, মাদক ব্যবসার পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে কি না তা অনুসন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা যাচাই করা।
আবেদনে আরও বলা হয়, অভিযোগকারীদের কেউ সাবেক পুলিশ সদস্য হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাসাভাড়া নিতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তারা নিরাপত্তা ও হয়রানির আশঙ্কা করছেন। আবেদনকারীর দাবি, চায়ের দোকানের আশপাশে মাদক তৈরির কথিত স্থাপনা থাকার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে তথ্য রয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারী স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং মাদক ও সহিংসতার প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে এলাকার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে দ্রুত, গোপনীয় ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন