গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগে বিএনপি নেতা ও শ্যালকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠিতে ৩ ব্যবসায়ী ভাইয়ের ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মোল্লা ও তার শ্যালক মোহাম্মদ হাসান এর বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ী ভাইদ্বয় মোঃ হাবিবুর রহমান ও মোঃ মাহবুবুর রহমান  বুধবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ।
 এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঝালকাঠিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন , তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের কিস্তাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতা মৃত আব্দুল গণি হাওলাদার ২০১১ সালে মারা যান। তারা চার ভাই ও এক বোন। বাবার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির মধ্যে যাতায়াতের রাস্তা ও কবরস্থানের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ জমি বাদ যায়। পরিবারের সদস্যদের বসবাসের সুবিধার্থে তার বাবা বড় ছেলে আব্দুল লতিফকে প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর ঘর তুলে বসবাসের অনুমতি দেন বলে দাবি করেন তারা।
হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালে এসএসসি পাস করার পর তিনি বাবার প্রায় ১৪ শতাংশ জমিতে নার্সারি করেন। ওই নার্সারি থেকে বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। তার বড় ভাই আব্দুল লতিফও ওই নার্সারি থেকে চারা নিয়ে নতুন বাড়িতে রোপণ করেন।
 তারা আরও বলেন, ২০০৭ সালে বড় ভাই আব্দুল লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে চার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমিতে থাকা গাছ বিক্রি করে তার চিকিৎসার খরচ বহন করা হয়। পরে একই বছর আব্দুল লতিফ মারা যান।
হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ সালে বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান তার বসতভিটার প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে গাছ বিক্রি করে সেখানে সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে হাসানের মা দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী হলে ২০২৫ সালের জুন মাসে চার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি থেকে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করা হয়। মানবিক কারণে তখন তারা কোনো আপত্তি করেননি বলেও জানান তিনি।
 গত ২৫ জুলাই জানতে পারেন, হাসান এবং তার দুই বোন লিপি ও হেপি লোকজন নিয়ে তাদের অন্যান্য ভাইদের অংশের জমির গাছ কাটছেন। খবর পেয়ে তিনি ও তার দুই ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। কিন্তু তাদের বাধা উপেক্ষা করলে তারা গাছ কাটার অভিযোগ নিয়ে আদালতের আশ্রয় নেন।
পরে আদালত ২৬ জুলাই ওই স্থানে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। মামলাটির নম্বর এমপি-৩৩০/২৬ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পরও হাসান ও তার বোনের জামাই পোনাবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমি থেকে প্রায় ৫০-৬০টি গাছ কেটে নিয়ে যান। একই সঙ্গে আরও ১০-১২টি ফলজ গাছের চারা নষ্ট করা হয় যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
তারা আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি নিয়ে গত ৮ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টায় উভয় পক্ষের কাগজপত্র ও আমিন নিয়ে সালিশে উপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী তিনি তার পক্ষের সালিশদার ও আমিন নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত হলেও অভিযুক্ত হাসান ও ইউনুস মোল্লা সেখানে উপস্থিত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান ইউনুস মোল্লার বিরুদ্ধে দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন। তিনি ইউনুস মোল্লাকে  সালিশ মীমাংসার কথা বললে সে দম্ভোক্তি করে বলে ক্ষমতা আছে তাই গাছ কেটে নিয়েছি।আমরা সারাদেশে সালিশ করে বেড়াই আমাদের সালিশি করবে কোন খানকির পোলায় ?
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ১৩ আগস্ট তার সেজো ভাই মাহবুবুর রহমান তাদের অনুমতিক্রমে ঝালকাঠি আদালতে গাছ কাটার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর সিআর-৪৭৪/২০২৬, জুডিশিয়াল আদালত, ঝালকাঠি।
সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান বলেন, জমি ও গাছ নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা তারা ।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান, লিপি, হেপি ও মো. ইউনুস মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
 এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ইউনুস মোল্লা বলেন আমরা সবাই আত্মীয়-স্বজন আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও কাল্পনিক।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top