সাম্প্রতিক
বেড়িবাঁধের বরাদ্দের এক টাকাও লুটপাট করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি শেখ হাসিনার অন্তিম যাত্রা ফ্যাসিস্টের দোসর আইনুল হলেন সামাজিক বিজ্ঞানের ডিন, ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর রাতভর বৃষ্টিতে ‘ডুবল’ রাজধানী, ভোগান্তিতে নগরবাসী লজ্জা থাকলে শেখ হাসিনা ওই মুখ দেখাতেন না: সারজিস ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে’: যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি রেফারিকে মেসি বললেন, ‘আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো’

তেল সংকটে রাজবাড়ীতে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বিক্রি কমেছে ৮৫ শতাংশ

রাজবাড়ী জেলায় দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেল সরবরাহে। এতে দেখা দিয়েছে তীব্র তেল সংকট, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মোটরসাইকেল খাত।
জেলায় অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। ফলে মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনলেও তেল না পাওয়ায় শোরুমেই গাড়ি রেখে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজবাড়ী জেলায় ১০টিরও বেশি মোটরসাইকেল শোরুম ও ডিলার রয়েছে। শোরুম মালিকরা বিক্রির পরিমাণ বাড়াতে মূল্য ছাড় দিলেও তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মাসের তুলনায় বিক্রি প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে।
শহরের বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাশূন্য পরিবেশ বিরাজ করছে, এমনকি সার্ভিস সেন্টারের টেকনিশিয়ানরাও অলস সময় কাটাচ্ছেন।
শহরের একটি শোরুমের পরিচালক বিপ্লব কুমার  ঘোষ বলেন, “চলমান তেল সংকটে আমরা দুর্বিষহ সময় পার করছি। দেড় মাস ধরে বিক্রি একেবারে তলানিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।”
একই শোরুমের কর্মচারী অনুপ কির্তনিয়া জানান, “আগে প্রতিদিন ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং হতো, এখন অনেক দিন কোনো কাজই থাকে না। আমরা কার্যত বেকার সময় পার করছি।”
অন্যদিকে, ফারুক হোন্ডা শোরুমের পরিচালক মাহিম আহমেদ বলেন, “গত মাসে যেখানে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, এখন তেল সংকটের কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এমনকি সার্ভিসিংয়ের জন্য আসতেও পারছেন না অনেকেই।”
ফারুক হোন্ডা শোরুমের সার্ভিসিং এ্যাজভাইজার সায়েম আহম্মেদ জানান, “অনেক ক্রেতা টাকা জমা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনেছেন, কিন্তু তেলের অভাবে তা নিয়ে যেতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে শোরুমেই রেখে যাচ্ছেন।”
জেলার বাজাজ শোরুমের পরিচালক আমিন উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আগেই বিক্রি কম ছিল, এখন তেল সংকটের কারণে পুরোপুরি ধস নেমেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এদিকে, শহরের পলাশ পাম্পের ম্যানেজার লোকমান হোসেন জানান, “ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল আনি, দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ব্যবসায়ীরা দ্রুত তেল সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জেলার মোটরসাইকেল ব্যবসা খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :