পদ-পদবি নয়, ত্যাগী মানুষগুলোর খোঁজ নিন

একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রতিটি ত্যাগী নেতা-কর্মীকে পদ-পদবি দেওয়া বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব নয়। পদ সীমিত, কিন্তু দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা মানুষের সংখ্যা অসংখ্য। তাই পদ না পাওয়া মানেই কোনো কর্মীর ত্যাগ, ভালোবাসা কিংবা দলের প্রতি অবদান কমে গেছে—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
বরং একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত সৌন্দর্য ও সাংগঠনিক শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন নেতৃত্ব পদ-পদবির বাইরে থাকা মানুষগুলোর ত্যাগের ইতিহাসকে সম্মান করে এবং তাদের খোঁজ নেয়।
দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছেন অসংখ্য নীরব সৈনিক। কেউ বছরের পর বছর দলের জন্য সময় দিয়েছেন, কেউ দুঃসময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতন সহ্য করেছেন, কেউ নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকেই হয়তো আজ কোনো পদে নেই, মঞ্চের সামনের সারিতেও নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাতেও নেই। অথচ দলের কঠিন সময়ে তারাই ছিলেন নির্ভরতার মানুষ।
আজ তাদের অনেকেই নিভৃতে জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ আর্থিক সংকটে, কেউ পারিবারিক সমস্যায়, কেউ অসুস্থতায়, আবার কেউ দীর্ঘদিনের অবহেলায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অথচ তাদের প্রত্যাশা হয়তো খুব বেশি নয়। তারা হয়তো বড় কোনো পদ চান না; তারা শুধু চান—দল যেন তাদের ভুলে না যায়।
একজন ত্যাগী কর্মীর বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ নেওয়া যায়। তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায়। তার কষ্টের কথা শোনা যায়। তাকে সম্মান দিয়ে বলা যায়—“আপনার ত্যাগ আমরা ভুলিনি।”
বিশ্বাস করুন, অনেক সময় একটি পদ দেওয়ার চেয়েও এই স্বীকৃতি একজন ত্যাগী মানুষের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
কারণ রাজনীতিতে পদ মানুষকে পরিচিত করে, কিন্তু ত্যাগ মানুষকে ইতিহাসে জায়গা করে দেয়।
তাই দলের প্রতিটি স্তরের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান—শুধু পদপ্রত্যাশীদের নয়, পদ-পদবির বাইরে থাকা ত্যাগী মানুষগুলোরও খোঁজ নিন। যারা আলোচনার বাইরে, তাদের কাছে যান। যারা দীর্ঘদিন নীরবে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করুন। যারা দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, সুসময়েও তাদের পাশে রাখুন।
আজকের দিনে নতুন মুখের প্রয়োজন যেমন আছে, তেমনি পুরোনো ত্যাগীদের সম্মান করাও সমান জরুরি। কারণ নতুনদের উদ্যম আর পুরোনোদের ত্যাগ—এই দুইয়ের সমন্বয়েই একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে।
সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়—কিন্তু সবার খবর নেওয়া সম্ভব।
সবাইকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব নয়—কিন্তু সবাইকে সম্মান দেওয়া সম্ভব।
সবাইকে সামনে আনা সম্ভব নয়—কিন্তু কাউকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
মনে রাখতে হবে, আজ যারা নীরবে আছেন, তারাই হয়তো আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই পদ-পদবির হিসাবের চেয়ে ত্যাগের হিসাব বড় হোক, পরিচয়ের চেয়ে অবদানের মূল্য বেশি হোক, আর রাজনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে দলের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠাই হোক মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি।
ত্যাগীদের খুঁজে নিন, তাদের কথা শুনুন, তাদের সম্মান দিন।
কারণ একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে শক্ত ভিত তৈরি হয় সেইসব নীরব সৈনিকদের হাতেই, যারা কোনো বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়াই দলের জন্য নিজেদের সময়, শ্রম, স্বার্থ ও জীবন উৎসর্গ করে যান।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ায় লায়ন অধ্যক্ষ শেখ রফিকুল ইসলামকে সংবর্ধনা

লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ায় পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী