পরকীয়ার জেরে সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় তার স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও প্রেমিক মনিরুল ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মনিরুল ফকির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে নিহত সেলিম রেজা সুজনের স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি উম্মে জামিলা তিথি পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২ জুন রাতে পরিকল্পিতভাবে সেলিম রেজা সুজনকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি অচেতন হয়ে পড়ার পর গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহতের স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথির সঙ্গে মনিরুল ফকিরের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত স্ত্রী উম্মে জামিলা তিথি ও তার প্রেমিক মনিরুল ফকিরকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর আদালত তাদের দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।
এদিকে মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়ায় রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। রায় ঘোষণার পর তারা আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শাস্তির আওতায় আনা উচিত ছিল।
দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে চলা এ মামলার রায়কে ঘিরে মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা দেখা যায়। রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে একদিকে সন্তোষ, অন্যদিকে অপর দুই আসামির খালাস নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ শেষ হলো।




