সাম্প্রতিক
লজ্জা থাকলে শেখ হাসিনা ওই মুখ দেখাতেন না: সারজিস ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে’: যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি রেফারিকে মেসি বললেন, ‘আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো’ টানা ভারী বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের কোটি টাকার পণ্য তলিয়ে গেছে পানিতে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’ সরানো হলো ৬ লাখের বেশি মানুষ ওরা আমাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে বেনাপোলে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার বন্যা মোকাবিলায় চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ১৯ মেডিকেল টিম, কার্যক্রম পরিদর্শনে সিভিল সার্জন গরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনা সমর্থক, উদ্ধার ১৭ গরু রামিসা, আছিয়া ও হাদী হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি

ফ্যামিলি কার্ড: নারীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নবতর আশা জাগানিয়া

 

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি হচ্ছে নারী। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ যত বাড়ছে, ততই দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার কর্তৃক চালু করা ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই উদ্যোগ নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়। সাধারণত পরিবারে নারীর নামেই এই কার্ড ইস্যু করা হয়। ফলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে আসে। এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং নারীর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের একটি কার্যকর মাধ্যম।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যায়, পরিবারের আর্থিক সংকটের সময় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নারীদের ওপর। তারা সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে নানা ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগ থাকলে পরিবারের ব্যয় অনেকটাই কমে আসে। এর ফলে নারীরা পরিবারের সঞ্চয় বাড়াতে বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় করতে পারেন। অর্থাৎ এই উদ্যোগটি নারীর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ফ্যামিলি কার্ড নারীর সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে। যখন পরিবারের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সংগ্রহের দায়িত্ব নারীর হাতে থাকে, তখন পরিবারে তার মতামত ও সিদ্ধান্তের গুরুত্বও বৃদ্ধি পায়। এটি ধীরে ধীরে নারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাকে আরও সক্রিয় সামাজিক ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করে।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে প্রকৃত দরিদ্ররা তালিকার বাইরে থেকে যায়, আবার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে অযোগ্য লোকেরা সুবিধা পেয়ে থাকে। এমন অনিয়ম থাকলে এই মহৎ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রয়োজন স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

আগামী ১০ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ১৪টি উপজেলার নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন।

প্রাথমিকভাবে বনানী কড়াইল বস্তি, পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর , পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা, খুলনার খালিশপুর , চরফ্যাশন ,ডিরাই ভৈরব ,বগুড়া সদর ,লালপুর ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ এলাকার হতদরিদ্র পরিবারগুলো এর আওতাভুক্ত হয়েছে । পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব উপজেলা এ কার্যক্রম আওতায় আসবে । প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে প্রতিটি পরিবার ২৫০০ টাকা করে সুবিধা পাবেন।

সবশেষে বলা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি নয়, এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি সম্ভাবনাময় মাধ্যম। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা পরিবারকে যেমন সহায়তা করবে, তেমনি নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর নারীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই শেষ পর্যন্ত একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :