রাজবাড়ীতে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণা মামলা থেকে রক্ষা পেতে আদালতের বেঞ্চ সহকারীর মাধ্যমে ভূয়া জামিননামা তৈরী করে থানায় জমা দিয়েও অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে তোফাজ্জেল হোসেন। তিনি
রাজবাড়ী সদর উপজেলার সোনাকান্দর ইমাম বাড়ী রাস্তার ছোরাপ সরদারের ছেলে। বুধবার দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর যুগ্ম জেলা দায়রা জজ ১ম আদালতে সোপর্দ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক তন্ময় গাইন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে।
জানাগেছে, তোফাজ্জেল হোসেন ও তার ইতালি প্রবাসী ভাই মোফাজ্জেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তাদেরকে ইতালি না পাঠিয়ে সেই অর্থ আত্মসাৎ করে। পরে তারা কিছু ব্যক্তির সামান্য টাকা পরিশোধ করলেও বাঁকি টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ওই সব ব্যক্তিদের ভুয়া চেক প্রদান করে। তারা দুই ভাই অর্থ হাতিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এ ঘটনায় তোফাজ্জেল হোসেনের নামে রাজবাড়ী আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণ দৌলতদিয়ার যদু শেখের পাড়া গ্রামের খিদির মন্ডলের ছেলে মোঃ ছিদ্দিক মন্ডল। যার সিআর-৮৪/২৫, এসসি-৪৯৫/২৫। পরে যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালত তাকে এক বছরের সাজাসহ ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা দণ্ড প্রদান করেন। পরে তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সাজা হওয়ার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন মানব পাচারকারী ধলের সক্রিয় সদস্য মোঃ তোফাজ্জল হোসেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) শাহাবুদ্দিন খান সঙ্গীও অফিসার সহ রাজবাড়ী সদর থানার সোনাকান্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিজ বাড়ি থেকে তোফাজ্জল হোসেন কে গ্রেফতার করে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক বছরের খাজাসহ ৩৪ লাখ টাকা জরিমানার সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ভুক্ত তোফাজ্জল হোসেন নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বুধবার রাজবাড়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার বাদী সিদ্দিক মন্ডলের অভিযোগ তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে এমআই অনটের ১৩৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন (সি,আর নং ৮৪/২৫)। গত ১৫ মার্চ যুগ্ম দয়রা জজ ১ম আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারীর পর গত ১৯ মার্চ সেটি থানায় পাঠানো হয়। পরে তিনি রাজবাড়ী সদর থানায় যোগাযোগ করলে জানতে পারেন যে, আসামি গত ১২ এপ্রিল জামিন পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে আপিল শর্তে জামিন নিতে হবে জরিমানার ৫০ শতাংশ টাকা জমা দিতে হয়। আসামি তোফাজ্জল হোসেন কোন টাকা জমা না দিয়েই এবং আপিল না করেই জামিন পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেেন, আইনজীবীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্জ সহকারি মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান শাহিনুর রহমান জাল পরোয়ানা তৈরি করে একটি ভুয়া পরোয়ানা ফেরত তৈরি করেন এবং এডভোকেট ক্লার্ক রিপন হোসেনের মাধ্যমে সেটি থানায় পাঠিয়ে আসামিকে কারামুক্ত হতে সহায়তা করেন। আদালতের কর্মচারীর কেমন জালিয়াতির বিচার অবস্থার শস্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বেঞ্চ সহকার শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাদের আইনজীবী রাজবাড়ী বারের অ্যাডভোকেট মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, এনআই আক্ট মামলার তথ্য, ভুয়া পরোয়ানা ফেরতের বিষয়ে বাদী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেছেন।
রাজবাড়ী আদালতের বেঞ্চ সহকারি শাহিনুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি আদালতকে না জানিয়ে নিজে বড় আনা ফেরত তৈরি করে ভুল করেছেন বলে স্বীকার করেন।












